[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।


sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ন /
রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণের উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।

আমাদের জন্মভুমি ডেক্স

বড় ভাই শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী। উদ্বোধনের পর বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের প্রতীক হিসেবে তিনি একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’-এর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে রাজশাহীতে আমন্ত্রণ জানিয়ে মহাসমারোহে এর চূড়ান্ত উদ্বোধন করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় কবির আদর্শ ও সৃষ্টিশীল চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জেলা প্রশাসক জানান, ‘নজরুল ভিলেজ’ কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি হবে সাহিত্য, সংগীত, নাটক, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক চর্চার একটি স্থায়ী উন্মুক্ত কেন্দ্র, যেখানে সব বয়সী মানুষ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হিসেবে নির্মিত হবে একটি আধুনিক ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং একটি সমৃদ্ধ নজরুল কর্নার। এখানে নিয়মিত কবিতা আবৃত্তি, নাট্যাভিনয়, পালাগান, সংগীত পরিবেশনা, সাহিত্য আলোচনা, পাঠচক্র এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, প্রকল্প এলাকায় কোনো বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে না। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পরিবেশবান্ধব নকশায় বৃক্ষশোভিত একটি সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণ গড়ে তোলা হবে, যেখানে শিল্পী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা প্রাকৃতিক পরিবেশে বসে সৃজনশীল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন এ প্রাঙ্গণ ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি বছরব্যাপী ‘নজরুল ক্যালেন্ডার’ অনুসারে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘নজরুল মঞ্চ’ নির্মাণে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আগামী মাসের নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো এই প্রাঙ্গণে আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী, সুধীসমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অতিথিরা বলেন, ‘নজরুল ভিলেজ’ শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।

Bangla Photocard Generatorv3.7