

নিজস্ব সংবাদদাতা,
রংপুরের কাউনিয়ায় একটি মাদরাসার এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের এক আবাসিক শিশুশিক্ষার্থীকে (১২) বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আজিজুল হাকিম (২৪)। তিনি বদরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমপাড়া নাটারাম এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে শিক্ষার্থীরা খাওয়া-দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক শরীর ম্যাসাজ করিয়ে নেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী শিশুটিকে নিজ কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলাৎকার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শিশুটির ভাষ্যমতে, পূর্বেও তাকে রড ও পাইপ দিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে একাধিকবার নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে অনৈতিক আচরণ করা হতো।
গত সোমবার রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবারও ওই শিশুকে নিজের কক্ষে ডেকে নিলে সে টয়লেটে যাওয়ার অজুহাতে পালিয়ে বাড়ি চলে যায় এবং স্বজনদের বিষয়টি জানায়। রাতেই স্বজনরা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রাখা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় শালিসের নামে কালক্ষেপণ করে মাদরাসা পরিচালকের ছেলের জিম্মায় থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত শিক্ষককে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, এর আগেও ওই মাদরাসায় এমন ঘটনা ঘটলেও তা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অভিযুক্তকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করে মাদরাসা পরিচালকের ছেলে রায়হান জানান, কীভাবে ওই শিক্ষক সবার অগোচরে পালিয়েছেন তা তার জানা নেই।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিহাব উদ্দিন জানান, শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পলাতক শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :