অপরাহ্ণ ০৬:৫০
বুধবার
২৫ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পরও খাতা পুনর্বিন্যাসের নজিরবিহীন অভিযোগ


sohel প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ন /
রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষণের পরও খাতা পুনর্বিন্যাসের নজিরবিহীন অভিযোগ

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এসএসসির উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ (খাতা চ্যালেঞ্জ) প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পরও গভীর রাতে শিক্ষকদের বোর্ডে ডেকে এনে দ্বিতীয় দফায় গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের উত্তরপত্র পুনরায় দেখা হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে গভীর মধ্যরাত পর্যন্ত অন্তত ২৭ জন শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডে ডেকে এনে এই খাতাগুলো দেখানো হয়, যা বোর্ডের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে মনে করছেন খোদ বোর্ডেরই একাধিক কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ শিক্ষকেরা।
​বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শুরু হয়। শিক্ষকদের মাধ্যমে কয়েক ধাপে উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষার কাজ সম্পন্নও করা হয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পুরো নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ফল ‘আশানুরূপ’ না হওয়ায় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে খাতাগুলো আবার দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কোন লিখিত নির্দেশনা বা স্পষ্ট নীতিমালা ছাড়া কীভাবে এবং কার নির্দেশে একই খাতা দ্বিতীয় দফায় রাতের আঁধারে পরীক্ষা করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
​মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে যান। সে সময় মূল ফটক বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া না হলেও বাইরে থেকেই ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা শিক্ষকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সাংবাদিকদের উপস্থিতির পর শেষ পর্যন্ত বোর্ডের মূল ফটকের সামনে এসে কথা বলেন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন।
​পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও মাঝরাতে কেন আবার খাতা দেখা হচ্ছে—এমন প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরী বিষয়টির সত্যতা একপ্রকার স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, “শিক্ষকেরা খাতা দেখে জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদের প্রশাসনিকভাবে মনে হয়েছে খাতাগুলো আরও ভালোভাবে দেখা দরকার। এবার ইংরেজি ও অঙ্কে প্রচুর পরীক্ষার্থী ফেল করেছে এবং খাতার সংখ্যাও অনেক বেশি। ফলে কাজগুলো শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছে।”
​রাতে শিক্ষকদের ডেকে এনে খাতা দেখানোর বিষয়ে যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকেরা দিনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাই আমাদের মনে হয়েছে সুবিধাজনক সময় হিসেবে সন্ধ্যার পরে তাঁদের এনে কাজটি করানো যায়। কারণ বুধবারের মধ্যেই চূড়ান্ত নম্বর পাঠাতে হবে, হাতে একদম সময় নেই।”
​শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডের অধীনে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৫২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পাস করেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন এবং পাসের হার ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন। মেয়েদের পাসের হার ৭০.৭৩ শতাংশ হলেও ছেলেদের পাসের হার ছিল মাত্র ৫৭.৩৩ শতাংশ।
​ফলাফলে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করে ১৭ আগস্টের মধ্যে রাজশাহী বোর্ডে রেকর্ড ৯৮ হাজার ৭১০টি পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন জমা পড়ে। যার একটি বড় অংশই ছিল গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের। বোর্ডের সূচি অনুযায়ী আগামী বৃহস্পতিবার এ পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে।
​তবে শিক্ষা বোর্ড সম্পর্কিত আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত পুনর্নিরীক্ষণে শুধু নম্বরের যোগফল, কোনো প্রশ্নের নম্বর বাদ পড়েছে কিনা বা ভুল তোলা হয়েছে কিনা তা মিলিয়ে দেখা হয়। সম্পূর্ণ খাতা দ্বিতীয়বার নতুন করে মূল্যায়নের কোন স্পষ্ট বিধান নেই, বিশেষ করে কোনো লিখিত প্রশাসনিক আদেশ ছাড়া মাঝরাতে এমন গোপনীয় প্রক্রিয়ায় খাতা দেখার ঘটনা শিক্ষা বোর্ডের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

2

2