
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:-এস কে দাস
নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুলের বিরুদ্ধে চরম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রবিউল আলম বুলেট। গত ৮-৯ মাসের ব্যবধানে এমপির ব্যাংক ড্রাফট ও খাদ্য গুদাম থেকে অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে দাবি করে এর সব হিসাব দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি তাঁর এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে রবিউল আলম বুলেট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মহাদেবপুরে বিএনপির নামে আলাদা সাইনবোর্ড দিয়ে যে কার্যালয় খোলা হয়েছে, আগামী ৭ নভেম্বরের কর্মসূচির পর তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে।
নেতাকর্মীদের নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন সুসংগঠিত থাকতে। আমরা সেই পথেই চলছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা ভেবে এতদিন মুখ খুলিনি।”
এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও আর্থিক দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে বুলেট আরও জানান, গত ৮-৯ মাসে এমপি কোথা থেকে কত টাকা নিয়েছেন এবং কোন ব্যাংক থেকে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে তা জমা হয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব ব্যাংক ড্রাফটের নম্বরসহ তারেক রহমানের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
মহাদেবপুর থানায় এই দুর্নীতির প্রমাণ দিতে না পারলে তিনি আর রাজনীতি করবেন না বলেও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “হাসিনার কাছে পুলিশ, আর্মি, বিজিবি ও প্রশাসন ছিল; কিন্তু জনগণের শক্তির কাছে তিনি টিকে থাকতে পারেননি। এমপি যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, জনগণের চেয়ে বড় কিছু নয়।
বর্তমান এমপির তীব্র সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, জেল থেকে বাঁচতে এমপির প্রতিনিধি ইউএনও-র পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন—সেই ইতিহাস সবার জানা। এখন বাইরে এসে বড় বড় কথা বলা হচ্ছে। ডিসি ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে এমপির দেওয়া টকশোর বক্তব্যের সমালোচনা করে বুলেট আরও বলেন, ডিসি কি এমপির একার? সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় না কেন? এগুলো টকশোতে বলে সাধারণ মানুষকে বোকা বানানো যাবে না।
বিগত ৫ বছরে সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমের আমলের চেয়েও বর্তমান এমপির ৮-৯ মাসের শাসনামলে বেশি দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, শুধু একটি খাদ্য গুদাম থেকেই তিন কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়েছে। কোনো কাজ না করেই কীভাবে বিল তোলা হয়েছে, তার সব হিসাবও জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া এই ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি রবিউল আলম বুলেট জানান, তিনি এ বিষয়ে সময়মতো বিস্তারিত কথা বলবেন।
এমপি ফজলে হুদা বাবুলের প্রতিক্রিয়া:
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল বলেন, “রাজনীতিতে থাকলে মানুষ এমন রাজনৈতিক কথা বলতেই পারে। বাংলাদেশ এখন তথ্যপ্রবাহের ক্ষেত্রে স্বাধীন এবং বিএনপি সবকিছু উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তাই লুকোচুরির কিছু নেই।”
তিনি আরও বলেন, যাঁর কাছে অডিও বা বক্তব্য রয়েছে, তিনি প্রমাণসহ জাতির সামনে আসুন। তিনি নতুন রাজনীতিতে আসেননি উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতি করতে গেলে প্রতিপক্ষ বা দলের ভেতর থেকে অনেকেই অনেক কথা বলবে। সংবাদকর্মীদের স্বাধীনভাবে খোঁজ নিয়ে নিজেদের মতো করে সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।
আপনার মতামত লিখুন :