

মোঃ মমিন আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় শেখর কুমার (নাম অনুযায়ী) নামে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বামী সমর সরকারকে হারানোর মাত্র এক বছরের মাথায় এবার একমাত্র ছেলে শেখর কুমারকেও হারিয়েছেন বেবি রানী সরকার। একের পর এক স্বজন হারিয়ে শোকে স্তব্ধ এই মা অভিযোগ করেছেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত শেখর কুমার নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিশা ইউনিয়নের দর্শন গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বগুড়ায় একটি বেসরকারি এনজিওতে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়িতে ফেরেন শেখর। বাড়িতে প্রায় ১০ মিনিট অবস্থান করার পর তিনি আবার বাইরে বেরিয়ে যান। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁর মা বেবি রানী সরকার ও স্বজনরা। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাতের দিকে বাড়ির পাশের নদীর পাড়ে অচেতন অবস্থায় শেখরকে দেখতে পান তাঁর মা ও প্রতিবেশী ফরিদা। পরে স্থানীয়রা নিশ্চিত হন, তিনি মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও পড়ে ছিল।
মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করেন। তাদের দাবি, ঘটনার দিন শেখরের সঙ্গে বাড়ির পাশের বাসিন্দা শিপ্রা সরকারের একাধিকবার মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখরের জীবনের শেষ ফোনকলটিও এসেছিল শিপ্রা সরকারের নম্বর থেকে।
পরিবার আরও দাবি করেছে, শেখরের মোবাইল ফোনে থাকা মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন চ্যাটে বন্ধুদের কাছে শিপ্রার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ ছিল। তবে শিপ্রার সঙ্গে সরাসরি মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের কোনো তথ্য তারা খুঁজে পাননি বলে জানিয়েছেন।
নিহতের মা বেবি রানী সরকার বলেন,
“শিপ্রা সুকৌশলে আমার ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। শেখর বাড়ি থেকে বের হয়ে সম্ভবত শিপ্রার কাছেই গিয়েছিল। আমি সন্ধ্যায় দুইবার নদীর পাড়ে খুঁজে এসেছিলাম, তখন সেখানে কিছুই ছিল না। কিন্তু রাত প্রায় ১২টার দিকে আবার গেলে আমার একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ দেখতে পাই। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ ঘটনায় শিপ্রা সরকারকে প্রধান আসামি করে মোট তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন শেখরের মা শ্রীমতী বেবি রানী সরকার।
অন্যদিকে, এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিপ্রা সরকার বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য জানা যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো আদালতে দায়ের করা মামলার অংশ এবং এখনো তদন্তাধীন। শেখর কুমারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :