

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছোট শহর রাজশাহীতে বিনোদনের সুযোগ বরাবরই সীমিত। নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে একসময় বেশ জমজমাট ছিল নওদাপাড়ার বড় বনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত শহীদ জিয়া শিশু পার্ক। শিশুদের নানা রকম রাইড, খেলনা ও কৃত্রিম পশুপাখির সমাহারে ছুটির দিনগুলোতে পার্কটি পরিণত হতো দর্শনার্থীদের মিলনমেলায়। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা, সংস্কারের অভাব ও অধিকাংশ রাইড অকেজো হয়ে পড়ায় সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে পার্কটির উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন বা বড় ধরনের সংস্কার হয়নি। ফলে একসময়ের প্রাণবন্ত এই বিনোদনকেন্দ্রটি এখন অনেকটাই জৌলুশ হারিয়েছে। ছুটির দিনেও আগের মতো দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায় না। পার্কের বিভিন্ন স্থানে নষ্ট রাইড, জরাজীর্ণ স্থাপনা ও অব্যবস্থাপনার চিত্র চোখে পড়ে।
জানা যায়, ২০০৬ সালে রাজশাহীর নওদাপাড়ার বড় বনগ্রাম এলাকায় ৪ দশমিক ৯৪ হেক্টর জমির ওপর প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে শহীদ জিয়া শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়। এটি ছিল রাজশাহী নগরীর অন্যতম বড় বিনোদনকেন্দ্র। নির্মাণের সময় পার্কটিতে ১৯টি রাইড এবং ৭০টি প্লে-গেমসের ব্যবস্থা ছিল। শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষের অবসর কাটানোরও অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছিল পার্কটি।
পার্কে জীবিত কোনো পশুপাখি না থাকলেও ইট-সিমেন্টের তৈরি বিভিন্ন পশু ও পাখির অবয়ব শিশুদের আকৃষ্ট করত। নানা ধরনের রাইড ও খেলনার কারণে তখন প্রতিদিনই পার্কে দর্শনার্থীদের আনাগোনা ছিল। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবারসহ সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পরিবার নিয়ে ভিড় করতেন নগরবাসী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পার্কের বিভিন্ন রাইড ও অবকাঠামো নষ্ট হতে শুরু করে। বর্তমানে অধিকাংশ রাইডই অকেজো বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিয়মিত সংস্কার ও আধুনিকায়নের অভাবে পার্কটির আকর্ষণও কমে গেছে। পার্কের ইজারাদারদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেও দীর্ঘদিন ধরে পার্কটি উন্নয়নবঞ্চিত। তাদের দাবি, পার্কটির নামের সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পার্কের এক ইজারাদার বলেন, “কেবল জিয়া নাম থাকার কারণে এই পার্কে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দীর্ঘ ১৫ বছর নগরীর এই প্রধান বিনোদনকেন্দ্রটি অবহেলিত থেকে গেছে। রাজনৈতিক কারণে প্রধান বিনোদনকেন্দ্রটি বর্তমানে মৃতপ্রায়। অবিলম্বে পার্কটির সংস্কার করা না হলে বর্তমানে যতটুকু দর্শনার্থী আসছেন, আগামীতে তারাও আর আসবেন না।” তিনি আরও বলেন, “বিনোদনকেন্দ্রগুলোও রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে ধ্বংসপ্রায় হয়ে যাচ্ছে। একটি বড় শহরে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের বিনোদনের জন্য এমন পার্কের প্রয়োজন রয়েছে। দ্রুত রাইডগুলো সংস্কার করে আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা দরকার।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল্লাহ, বয়স ৪০ বছর। তিনি বলেন, “আগে এই পার্কের অনেক চল ছিল। ব্যাপক ভিড় হতো। এখন সব নষ্ট হওয়ায় আর সেরকম ভিড় হয় না। বিএনপির জিয়ার নাম হওয়ায় এখানে কোনো কাজ হয়নি।” পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী লাবনী আক্তার, বয়স ২৫ বছর, বলেন, “এখনো ছুটির দিনে সময় পেলে পার্কে ঘুরতে আসি। তবে অধিকাংশ রাইডই নষ্ট। এগুলো দ্রুত ঠিক না হলে হয়তো আর আসা হবে না।”
স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভাষ্য, রাজশাহীতে পরিবার নিয়ে ঘোরার মতো জায়গা খুব বেশি নেই। এ কারণে শহীদ জিয়া শিশু পার্কটি নতুন করে সাজানো হলে এটি আবারও নগরবাসীর অন্যতম প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। শিশুদের উপযোগী আধুনিক রাইড, নিরাপদ খেলার ব্যবস্থা, বসার জায়গা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হলে পার্কটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা
আপনার মতামত লিখুন :