

আমাদের জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, শীর্ষ নেতাদের সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নেতৃত্বের স্থবিরতা কাটাতে ঈদুল ফিতরের পর থেকেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।স্থানীয় খবর
দলীয় তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে অধিকাংশেরই কমিটির মেয়াদ বহু আগেই শেষ হয়েছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা দীর্ঘদিন ধরে হচ্ছে না। ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
একই চিত্র মূল দল বিএনপিতেও। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন কাউন্সিল হয়নি। যদিও এর মধ্যে নির্বাহী কমিটিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে, তবুও পূর্ণাঙ্গ পুনর্গঠন না হওয়ায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি কমে গেছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। সংসদ ও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করছেন অনেক নেতা, যারা একই সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বেও ছিলেন। এতে সাংগঠনিক কাজে সময় ও মনোযোগ কমে যাওয়ায় কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, আপাতত সরকার পরিচালনাই অগ্রাধিকার হলেও সংগঠনকে শক্তিশালী করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি একাধিক বৈঠকে দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সূত্র বলছে, ঈদুল ফিতরের পরপরই এই পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা এখন দলের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে। নেতাদের মতে, দুর্বল সংগঠন নিয়ে নির্বাচনে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা নিতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকেই পদবঞ্চিত হয়ে সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। একই কমিটি দীর্ঘদিন বহাল থাকায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে সংসদীয় কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হলে সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আপাতত মূল দলের কাউন্সিল না হলেও অঙ্গসংগঠনগুলোর পুনর্গঠন শিগগিরই শুরু হতে পারে।
দলীয় সূত্র আরও জানায়, শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতোমধ্যে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে অঙ্গসংগঠনগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, কৃষক দল, মহিলা দলসহ অধিকাংশ সংগঠনই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কোথাও আংশিক কমিটি, কোথাও দীর্ঘদিনের পুরোনো নেতৃত্ব বহাল রয়েছে। ফলে সংগঠনগুলোতে কার্যত স্থবিরতা বিরাজ করছে।
সব মিলিয়ে, সাংগঠনিক গতি ফেরাতে এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির জন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব এলে সংগঠন আরও গতিশীল হবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন উদ্যম তৈরি হবে
আপনার মতামত লিখুন :