অপরাহ্ণ ০৫:২৭
মঙ্গলবার
২৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা—কার ইশারায়? বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ভবন অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে! অনুমতি ও বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, তদন্তের দাবি


sohel প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:০৯ অপরাহ্ন /
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা—কার ইশারায়? বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ভবন অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে! অনুমতি ও বৈধতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন, তদন্তের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার:

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবন নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠনিক কার্যক্রম, কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য নির্মিত ভবনটি বর্তমানে মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রাখা মানুষগুলোর নামে নির্মিত স্থাপনা যদি তাদের নির্ধারিত কার্যক্রমের বাইরে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই ব্যবহারের অনুমতি দিল কে?
মুক্তিযোদ্ধাদের ভবনে মাদ্রাসা—অনুমোদন কোথায়?
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবনটি বর্তমানে মাদ্রাসার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে ভবনটি অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো লিখিত অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।
কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ভবনটি ব্যবহৃত হচ্ছে, কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো সরকারি বা প্রশাসনিক অনুমোদন রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয় বলে দাবি স্থানীয়দের।
‘যে ভবন মুক্তিযোদ্ধাদের, সেটি অন্য কাজে কেন?’
স্থানীয়দের সরল প্রশ্ন—মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত ভবন যদি মুক্তিযোদ্ধাদের সাংগঠনিক ও কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের জন্য হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলো কীভাবে?
আর যদি নিয়ম মেনেই ভবনটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই অনুমোদনের কাগজপত্র প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?
নিয়ম মেনে হলে ভয় কিসের—আর নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা কোথায়?
সম্পত্তি রক্ষায় দায়িত্বশীলদের ভূমিকা কোথায়?
মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্মিত সরকারি বা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহারের দায়িত্ব কার—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ সত্য হলে দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি অন্য কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানত কি না, জানলে কী ব্যবস্থা নিয়েছে, আর না জানলে কেন জানেনি—এসব প্রশ্নের জবাবও প্রয়োজন।
কারণ, একটি ভবনের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির বিষয়।
তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে আসল চিত্র
ভবনটির জমির মালিকানা, নির্মাণের প্রকল্প, অর্থের উৎস, নির্মাণের উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি এবং বর্তমানে ব্যবহারের অনুমোদন—সবকিছু যাচাই করা জরুরি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিন তদন্ত করে ভবনটি বর্তমানে কীভাবে, কার সিদ্ধান্তে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা স্পষ্ট করা হলে অভিযোগের সত্যতা যেমন বেরিয়ে আসবে, তেমনি ভুল অভিযোগ থাকলেও তার অবসান হবে।
চার প্রশ্নের জবাব চায় স্থানীয়রা
১. মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভবন অন্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারে দেওয়ার অনুমতি কে দিয়েছে?
২. অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকলে তার লিখিত নথি কোথায়?
৩. ভবনটির বর্তমান ব্যবহার কি সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও প্রকল্পের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?
৪. অনিয়ম হয়ে থাকলে এতদিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি কেন?
দখল নাকি অনুমোদিত ব্যবহার—স্পষ্ট হোক সত্য
এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো—বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বিরোধের রূপ না দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা।
কারণ, ভবনটি যদি বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে সেই নথি প্রকাশ করলেই প্রশ্নের অবসান হতে পারে। আর যদি নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবনটি তার নির্ধারিত কাজে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্মিত স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন—জবাব দেবে কে?
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। একইভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্মিত কোনো স্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে সেটিও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
ভাওয়াল মির্জাপুরের এই ভবন নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কী? কার অনুমতিতে সেখানে মাদ্রাসার কার্যক্রম চলছে? ভবনটি কি নিয়ম মেনেই ব্যবহৃত হচ্ছে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কাহিনি?
এসব প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসনের তদন্তেই মিলতে পারে।
দাবি একটাই—অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক। সত্য প্রকাশ করা হোক। অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নির্মিত স্থাপনার মর্যাদা ও নির্ধারিত ব্যবহার নিশ্চিত করা হোক।
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদ নিয়ে কোনো অনিয়ম নয়—চাই জবাবদিহি।

2

2