

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা
খুলনার দিঘলিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পবিত্র কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব, তাৎপর্য ও ফজিলতকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘খতমে কোরআন অনুষ্ঠান-২০২৬’।
১৩ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করলেন আব্দুর রহমান, এ বছর হিফজ সম্পন্ন করেছেন ১০ শিক্ষার্থী
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আবেগঘন পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার হিফজ বিভাগের ১৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. আব্দুর রহমান শেষ ছবক শুনিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত আলেম-ওলামা ও অতিথিরা পবিত্র কোরআন শিক্ষার গুরুত্ব, মানবজীবনে এর প্রভাব এবং কোরআনের শিক্ষা অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা ও ফজিলত নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে আব্দুর রহমান পবিত্র কোরআনের শেষ পৃষ্ঠা ছবক শুনিয়ে হিফজ সম্পন্ন করার আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। এ সময় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন ও ধর্মীয় পরিবেশ।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৬ সালে দিঘলিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানা থেকে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছে। আগামী বার্ষিক মাহফিলে হিফজ সম্পন্নকারী এসব শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাগড়ি প্রদান করা হবে, ইনশাআল্লাহ। সংশ্লিষ্টরা এ অর্জনকে প্রতিষ্ঠানটির হিফজ শিক্ষা কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানার সভাপতি আলহাজ কে এম শওকাত আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ক্বারী মো. আব্দুল্লাহ, মাদ্রাসার মুহতামিম ড. হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম, ফরিদপুরের হাফেজ মাওলানা মুফতি আখতার হোসেন—খতম নেওয়া শিক্ষার্থী আব্দুর রহমানের পিতা, মাওলানা মুফতি শামসুল হক এবং মাদ্রাসার সহ-সভাপতি আলহাজ মুসলিম উদ্দিন হাওলাদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দিঘলিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসা ও এতিমখানায় ৩৩৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর মধ্যে হিফজ বিভাগে রয়েছে ৬০ জন শিক্ষার্থী। হিফজ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাফেজ তাহমীদ। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে শিক্ষক রয়েছেন ২০ জন।
বক্তারা বলেন, পবিত্র কোরআন শুধু মুখস্থ বা তেলাওয়াতের বিষয় নয়; বরং কোরআনের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মধ্যেই এর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত। শিশু-কিশোরদের কোরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শ চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
এ সময় আব্দুর রহমানের পিতা হাফেজ মাওলানা মুফতি আখতার হোসেনসহ উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকেরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মাদ্রাসার অগ্রগতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সুস্বাস্থ্য এবং হিফজ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জীবনের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসার মুহতামিম ড. হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম। দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
আপনার মতামত লিখুন :