[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

সার সংকট নেই বলেন রাজশাহীতে ডিসি


sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৬, ২০২৬, ৬:৪৯ অপরাহ্ন /
সার সংকট নেই বলেন রাজশাহীতে ডিসি

মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী
রাজশাহীতে আমন ধান রোপণের প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফলে নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা কমেছে। তবে আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে জেলার গুদামগুলোতে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন বা ৪৯ হাজার ৩৮০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম
তিনি বলেন, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দও ইতিমধ্যে ডিলারদের দেওয়া হয়েছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুত বা কালোবাজারির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর চৌদ্দপাই এলাকার সারের ডিলার মেসার্স মোসলেম মোল্লা এবং পবা উপজেলার কাটাখালীর সংসাদিপুর এলাকার মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজের গুদাম পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। এ সময় তিনি সারের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখেন।

পরিদর্শনকালে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান উপস্থিত ছিলেন।

সারের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, আগস্ট মাসে রাজশাহীতে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে এবং ডিলারদের মাধ্যমে তা কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত সারের বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা সেপ্টেম্বর মাসের নির্ধারিত সার উত্তোলন করতে পারবেন। ইতিমধ্যে তাঁদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

জেলা প্রশাসক বলেন, আমন ধানের প্রায় ৯০ শতাংশ রোপণ শেষ হওয়ায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা এখন কম। এ সময় আমন ধানে উপরি প্রয়োগের জন্য ইউরিয়া সারের প্রয়োজন বেশি। এ জন্য পর্যাপ্ত ইউরিয়া মজুত রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও ব্লক সুপারভাইজারদের উপস্থিতিতে ডিলার পয়েন্ট থেকে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করা হচ্ছে। কৃষকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য না হন, সে বিষয়েও নজরদারি চলছে।

ডিলারদের সার বিতরণে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের হিসাব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। একজন ডিলার কতটুকু সার উত্তোলন করেছেন, কতটুকু মজুত রেখেছেন এবং দিন শেষে কতটুকু বিক্রি করেছেন—এসব তথ্য প্রতিদিন জমা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কালোবাজারি ও অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৩ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। অনিয়মের দায়ে ৩ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও বাজারে সারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপজেলাগুলোতে মোবাইল কোর্ট ও ভিজিল্যান্স টিমের তদারকি অব্যাহত থাকবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধভাবে সার মজুত, কালোবাজারি কিংবা নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুদামে মোট ৪ হাজার ৫৭২ মেট্রিক টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে চলতি মাসে ইউরিয়ার বরাদ্দ ছিল ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন। মজুদ আছে ২ হাজার ৪৬৯ মেট্রিক টন। ডিএপির ২ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টন বরাদ্দের বিপরীতে মজুত রয়েছে ৫৫৪ মেট্রিক টন। টিএসপির ১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টনের মধ্যে মজুত ৭৭৭ মেট্রিক টন। এমওপির ১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টনের মধ্যে মজুত আছে ৭৭২ মেট্রিক টন।

তিনি বলেন, গত সোমবার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক চিঠিতে টিএসপি ১ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন, ডিএপি ২ হাজার মেট্রিক টন এবং এমওপি ৮০০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত চাওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে গত শনিবার রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। তাঁর জায়গায় শরীয়তপুরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেনকে রাজশাহীতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে

Bangla Photocard Generatorv3.7

2

2