অপরাহ্ণ ০৪:৪৮
মঙ্গলবার
২৪ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়ক: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে উন্নয়নের ছোঁয়াবঞ্চিত এক অবহেলিত জনপদ


sohel প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ন /
রাজশাহীর ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগ সড়ক: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে উন্নয়নের ছোঁয়াবঞ্চিত এক অবহেলিত জনপদ

আমাদের জন্মভূমি নিউজ ডেক্স
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের প্রতিদিনের চলাচলের একমাত্র প্রধান ভরসা একটি সংযোগ সড়ক। তবে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও সংস্কারের আলো থেকে বঞ্চিত এই রাস্তাটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য চরম দুর্ভোগের অপর নাম। খানাখন্দে ভরা, ধুলোবালি ও সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই সড়কটি যেন কেবল একটি রাস্তা নয়, বরং দুই ওয়ার্ডের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নেতৃত্বের টানাটানির এক জীবন্ত প্রতীক। অভিযোগ উঠেছে, জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী বলয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরেই আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ এই জনপথের উন্নয়ন কাজ।
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাসিকের ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডকে যুক্ত করা এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দুই এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাচল করেন। এর মধ্যে রয়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা। কিন্তু সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, পায়ে হেঁটে চলাই দায়, যানবাহনে চলাচল তো দূরের কথা। একটু বৃষ্টি হলেই গর্তগুলোতে পানি জমে ছোটখাটো ড্রেনে পরিণত হয়। অন্যদিকে রোদ উঠলেই বাতাসে ওড়ে বিষাক্ত ধুলোবালি, যা আশেপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে জমে তৈরি করছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
​স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দুই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কার্যালয় ও সিটি কর্পোরেশনে একাধিকবার আবেদন করা হলেও মেলেছে কেবল আশ্বাস। ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা সংক্রান্ত টানাপোড়েন এবং রাজনৈতিক মতভেদের কারণে উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ পাওয়া সত্ত্বেও কাজ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে। এক ওয়ার্ডের প্রতিনিধিরা অন্য ওয়ার্ডের ওপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। “কাউন্সিলররা আসেন, আশ্বাস দেন, কিন্তু ভোটের পর আর কারো দেখা মেলে না। রাজনৈতিক বিরোধ তাদের হতে পারে, কিন্তু তার খেসারত আমরা সাধারণ জনগণ কেন দেব?”—ক্ষোভ প্রকাশ করে কথাগুলো বলছিলেন ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রবীণ বাসিন্দা।
​যানবাহন চালকদের ভোগান্তি আরও করুণ। অটোরিকশা ও রিকশাচালকরা জানান, এই সড়কে প্রায় প্রতিদিনই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। খানাখন্দের কারণে প্রায়ই অটোরিকশার এক্সেল ভেঙে যায় বা উল্টে গিয়ে যাত্রীরা আহত হন। অনেকেই এখন এ রাস্তা দিয়ে বাড়তি ভাড়াতেও যেতে চান না। এতে করে উভয় এলাকার বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ বহুলাংশে বেড়ে গেছে।
​নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে মৌলিক নাগরিক অধিকার বা যোগাযোগ ব্যবস্থা আটকে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। নগরীর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনপ্রতিনিধিদের সদিচ্ছা জরুরি।
​এ বিষয়ে রাসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সড়কটির বেহাল দশার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে এবং সীমানা ও বাজেট সংক্রান্ত বাধা কাটিয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে সড়কটি টেকসই নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
​তবে আশ্বাসের আশায় আর বসে থাকতে চান না ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ। অবহেলিত এই দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের এখন একটাই দাবি—উন্নয়নকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে রেখে অবিলম্বে সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে হবে।

2

2