

নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজশাহীর পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকায় নারীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক উঠান-বৈঠকে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তাঁর ফোন পেয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নওহাটা পৌরসভার প্রশাসক ইবনুল আবেদীন। সোমবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে পবা উপজেলার নওহাটা পৌরসভার ভুগরোইল ভোলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নারীদের নিয়ে আয়োজিত উঠান-বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী নারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের এলাকার বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এসব সমস্যার মধ্যে ছিল সৌর বিদ্যুতের লাইট না থাকা, রাতের অন্ধকারে চলাচলে ঝুঁকি, দুর্ঘটনার শঙ্কা এবং রাস্তার ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। সংসদ সদস্য মনোযোগ দিয়ে সেসব কথা শোনেন এবং নোট নেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দা রুমা বেগম অভিযোগ করে বলেন,“আমরা বিএনপি করি, সেই কারণে আমার বাড়িসহ এই এলাকায় সৌর বিদ্যুতের লাইট দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অন্ধকারে চলাচল করতে হয়েছে। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি।”এমন অভিযোগ শোনার পরপরই সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন তাৎক্ষণিকভাবে পবা উপজেলার ইউএনও ইবনুল আবেদীনকে ফোন করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেন। এমপির ফোন পেয়ে কোনো বিলম্ব না করে ইউএনও মোটরসাইকেলে করে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান। ঘটনাস্থলে এসে ইউএনও স্থানীয়দের কাছ থেকে বিস্তারিত সমস্যার কথা শোনেন এবং তা নিজের ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন। তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হবে। এসময় তিনি বলেন, এলাকাবাসীর সমস্যাগুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছি। সৌর বিদ্যুতের লাইটসহ যেসব নাগরিক সুবিধার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে, সেগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারি সেবা সবার জন্য সমান এখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচ্য নয়।
বৈঠকে সংসদ সদস্য বলেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমি আপনাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে তাদের সমস্যা শোনা এবং দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমে রাজনৈতিক পরিচয় কোনো বাধা হওয়া উচিত নয় এবং সকল নাগরিকের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের এমন সমন্বিত ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্তোষ প্রকাশ পেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে নারীরা সরাসরি তাদের সমস্যা তুলে ধরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এর আগে একই দিনে নওহাটা পৌরসভার ভুগরইল চিশতীয়া মোবারকীয়া খানকাহ শরীফের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াদুদ হাসান পিন্টু, নওহাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান এবং জেলা যুবদলের সদস্য ইফতেখারুল ইসলাম ডনি।
এলাকাবাসীর মতে, এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :