অপরাহ্ণ ০৯:৫১
রবিবার
২০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মীরসরাইয়ের মস্তান নগর সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন অকেজো জেনারেটর, বিদ্যুৎ চলে গেলে ভরসা একমাত্র মোমবাতি


sohel প্রকাশের সময় : মে ৩, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ন /
মীরসরাইয়ের মস্তান নগর সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন অকেজো জেনারেটর, বিদ্যুৎ চলে গেলে ভরসা একমাত্র মোমবাতি

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর দুই বছর ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে। লোডশেডিংয়ে একমাত্র ভরসা মোবাইল ফোন ও মোমবাতির আলো। তখন রোগীদের ওয়ার্ডে দু’একটি চার্জার বাল্ব জ্বললেও বিদ্যুৎহীন থাকে পুরো হাসপাতাল ভবন। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের আত্মীয় স্বজনরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মীরসরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২ পৌরসভার প্রায় ৬ লাখ মানুষের ভরসা একমাত্র এই সরকারি হাসপাতালটি। বিভিন্ন সমস্যায় তারা এ হাসপাতালেই ছুটে আসেন।
তবে, মেলে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটে ভুগছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২১২টি পদের মধ্যে কর্মরত: আছেন ১৫৮ জন। পদ শূন্য রয়েছে ৫৪টি। ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত: আছেন ১৫ জন। পদ শূন্য রয়েছে ২০টি। ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১৬টি পদের মধ্যে কর্মরত: আছেন মাত্র ৮জন। ৮টি পদ শূন্য রয়েছে। ৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিকে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে কর্মরত: আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ১২টি।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সরেজমিন হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগ ও দু’টি ওয়ার্ডে রোগীরা ভর্তি রয়েছেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর দু’টি ওয়ার্ড ও জরুরি বিভাগ ছাড়া পুরো হাসপাতাল অন্ধকারাচ্ছন্ন। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটর অকেজো হয়ে তালাবদ্ধ একটি কক্ষে পড়ে আছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ৪ নং ধুম ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, ‌‘পেটের ব্যথা নিয়ে একদিন আগে ভর্তি হয়েছি। ভর্তি হওয়ার পর থেকে ঝড়-তুফান শুরু হয়। বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিলো না। ওয়ার্ডের কর্নারে একটি চার্জার লাইট জ্বললেও ফ্যান বন্ধ থাকায় গরমে অস্থির লাগছিলো। একটা হাসপাতাল এভাবে চলতে পারে না বলে তার মন্তব্য।’
৫ নং ওচমানপুর থেকে আসা এক গৃহবধূ বলেন, ‌‘আমার ৩ বছরের সন্তানকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি।
তবে, হাসপাতালে থাকতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়। এতো বড় হাসপাতাল কিন্তু বিদ্যুৎ গেলে আর কোনো ব্যবস্থা নেই!’
স্থানীয় একজন বলেন, ‘মীরসরাইয়ের মানুষের সরকারি চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। প্রতিদিন মীরসরাইয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগী আসেন। সেবাও পাচ্ছেন আগের তুলনায় ভালো। তবে, দুঃখের বিষয় বিদ্যুৎ যাওয়ার পর ডাক্তাররা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট কিংবা মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগী দেখতে হয়।’
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইপিআই বলেন, ‘গত মঙ্গলবার সকালে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাসপাতালে আসা রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জেনারেটর আছে, তবে দুই বছর ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। তেলের বাজেটও ঠিকমতো আসে না। যে টাকা তেলের বাজেট আসে, তা দিয়ে তেল কিনে ২ মাস জেনারেটর চালানো যাবে।
তবে, গত কয়েকদিন ধরে জেনারেটর সচল করার চেষ্টা চলছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেন, জেনারেটর ২ বছর ধরে নষ্ট হয়ে আছে। এ’টি সচলের চেষ্টা চলছে। শূন্য পদগুলোর বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিস সহ মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে ও জানান তিনি।
এ প্রসঙ্গে মীরসরাই থেকে নির্বাচিত বিএনপি’র এমপি নুরুল আমিন বলেন, ‘মীরসরাইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য এখানে আসছেন। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রায় ৬ লাখ মানুষের বসবাসের এই উপজেলায় একটি মাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। হাসপাতালটিতে যান্ত্রিক ও কাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। আমি এই হাসপাতালটির বিষয়ে বিস্তারিত জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তুলে ধরেছি। এতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়েছেন। হাসপাতালটিকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি ও জানানো হয়েছে।
তিনি আশা পোষণ করে বলেন, অচিরেই হাসপাতালটির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

Bangla Photocard Generatorv3.7