

বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী:
রাজশাহী নগরীর একটি ফ্ল্যাট থেকে নারীসহ অবরুদ্ধ অবস্থায় চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এক নারীর সঙ্গে ফ্ল্যাটে অবস্থানের তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীরা বাইরে থেকে ঘেরাও করলে তিনি দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতর ছিটকিনি আটকে থাকেন। পরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে তাদের বের করে আনে। বর্তমানে মাহবুব ও ওই নারীকে চন্দ্রিমা থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকার একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে সানজিনা মৌ নামের এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন সাবেক ওসি মাহবুব। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধে এবং তারা ফ্ল্যাটের চতুর্দিক ঘিরে ফেলেন। জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে ওসি মাহবুব ভেতর থেকে মূল দরজার ছিটকিনি বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ প্রায় ২ ঘণ্টা তারা ঘরের ভেতরেই আত্মগোপন করে থাকেন এবং বাইরে থেকে অনবরত ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান।
উদ্ধার অভিযান
পরিস্থিতি হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার দিকে গড়ালে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। বারবার ভেতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দরজার লকার ভেঙে ঘরের ভেতর প্রবেশ করেন এবং সাবেক ওসি মাহবুব ও ওই নারীকে উদ্ধার করে সুরক্ষামূলক হেফাজতে নেন।
স্ত্রী দাবির বিতর্ক ও পুলিশের বক্তব্য
উদ্ধারের সময় ওসি মাহবুব সঙ্গে থাকা সানজিনা মৌকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তবে এই দাবির সপক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি কোনো বৈধ বিয়ের কাবিননামা, পরিচয়পত্র বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। উদ্ধার হওয়া নারী আসলেই তার বৈধ স্ত্রী কি না, সে বিষয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি।
চন্দ্রিমা থানা কর্তৃপক্ষ জানায়, আটককৃতদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। উভয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং বিয়ের সপক্ষে সঠিক কাগজপত্র পেশ করতে পারলে বা তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :