

স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আল-আমিন খাঁন (১৯) নামে এক যুবককে অপহরণ করে মারধর এবং পরিবারের কাছে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী আল-আমিন খাঁনের দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে গৌরীপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মধ্য ভালুকা এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন নিজ বাড়ি থেকে গৌরীপুর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী তাকে জোরপূর্বক আটক করে। পরে মোটরসাইকেলে তুলে মধ্য ভালুকা এলাকার পাঠান বাড়ির সামনে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দৌলতপুর এলাকার মুন্নাফ, মাহাবুব, আলাদ্বীন, রিপাত, জলিল ও আজিজসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল আল-আমিনকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নির্যাতনের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের একজন আল-আমিনের বড় বোন স্বর্ণা আক্তারের মোবাইল ফোনে কল করে ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা দিলে আল-আমিনকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এ ঘটনায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত সটকে পড়ে। তবে যাওয়ার আগে তারা মামলা বা অভিযোগ না করার জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত আল-আমিনকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার চিকিৎসা প্রদান করেন।
ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে আল-আমিন খাঁন গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কচি মিয়া বলেন, “অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির মতো গুরুতর অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
আপনার মতামত লিখুন :