

মোঃআইয়ুব আলী,লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি:নাটোরের লালপুর উপজেলায় ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজের (LSD) ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সময়মতো প্রতিষেধক টিকা না দেওয়া এবং সরকারি বরাদ্দের তীব্র ঘাটতির কারণে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের মতে, গত দুই মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে প্রায় ৫০টি গরু। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারীরা।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, লালপুর উপজেলায় মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে মে মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে সংক্রমিত হয়েছে। সরকারি হিসাবে ৩৫টি গরুর মৃত্যুর কথা বলা হলেও স্থানীয় সূত্রে মৃতের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিলমাড়িয়া ইউনিয়নে, যেখানে একাই প্রায় সাড়ে তিন হাজার গরু এই রোগে আক্রান্ত। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই উপজেলায় প্রথম ল্যাম্পি স্কিন রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল।১.৫ লাখ গরুর জন্য সরকারি টিকা মাত্র ৩৫০ ডোজ!প্রতিবেদনে উঠে এসেছে টিকার চরম অপ্রতুলতার কথা। উপজেলার দেড় লাখেরও বেশি গরুর বিপরীতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া গেছে মাত্র ৩৫০ ডোজ টিকা, যা গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসেই শেষ হয়ে যায়। প্রাণিসম্পদ অফিসের দাবি, সরকারি বরাদ্দের বাইরেও বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় ১৮ হাজার পশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছিল। তবে বিশাল পশুপালের তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল।খামারীদের অসচেতনতা ও ভুল সময়ে টিকা প্রয়োগসরকারি টিকা শেষ হওয়ার পর প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারীদের বাজার থেকে মানসম্মত টিকা কিনে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষুদ্র খামারী তাতে কর্ণপাত করেননি। পরবর্তীতে এলাকায় রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লে অনেক খামারী আতঙ্কিত হয়ে টিকা প্রয়োগ করেন, কিন্তু তাতে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকা প্রয়োগের অন্তত ১৫ দিন পর থেকে এর কার্যকারিতা শুরু হয়। কিন্তু গরু আগে থেকেই আক্রান্ত থাকলে বা আশেপাশে সংক্রামিত পশু থাকলে সে অবস্থায় টিকা দিলে তা আর কাজ করে না।দুশ্চিন্তায় খামারীরাবর্তমানে প্রতিদিন নতুন নতুন গরু আক্রান্ত হওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন লালপুরের গবাদিপশু পালনকারীরা। ক্ষুদ্র খামারীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত টিকার সরবরাহ না থাকা এবং সঠিক সময়ে উপযুক্ত পরামর্শ না পাওয়ার কারণেই আজকের এই করুণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত সরকারি উদ্যোগে পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ ও আক্রান্ত পশুর জরুরি চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন উপজেলার প্রান্তিক খামারীরা।
আপনার মতামত লিখুন :