অপরাহ্ণ ০৯:২৪
রবিবার
৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ মে ১৯৮১-এর ঘটনাপ্রবাহে উঠে এলো অজানা তথ্য ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বর্ণনা


sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন /
৩০ মে ১৯৮১-এর ঘটনাপ্রবাহে উঠে এলো অজানা তথ্য ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বর্ণনা

ইসলামী স্কলার আলহাজ্ব মাওঃ জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল:-
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তাঁর মরদেহ ঘিরে কী ঘটেছিল—সেই বহুল আলোচিত ও দীর্ঘদিনের অজানা অধ্যায়ের একটি বিবরণ উঠে এসেছে অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইরতিজা নাসিম আলীর ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় কিস্তিতে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও সেদিন সকাল পর্যন্ত সার্কিট হাউস এলাকায় ছিল অস্বাভাবিক নীরবতা। প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও নিহতদের মরদেহ দীর্ঘ সময় ধরে সেখানেই পড়ে ছিল।

লেখকের বর্ণনায় বলা হয়েছে, কর্নেল মতিউর মেজর মোজাফফরকে নির্দেশ দেন জিয়াউর রহমানের মরদেহ রাঙামাটির কোনো পাহাড় থেকে ফেলে দিতে, যাতে তাঁকে কবর দিয়ে ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা না যায়। তবে মেজর মোজাফফর শেষ পর্যন্ত সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না করে নিজ উদ্যোগে মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সার্কিট হাউসের দোতলায় গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জিয়াউর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। সেখানে আরও কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার মরদেহ পড়ে ছিল। বিছানার চাদর ও সেনাবাহিনীর গ্রাউন্ডশিটে মরদেহগুলো জড়িয়ে একটি পিকআপে তোলা হয় এবং রাঙ্গুনিয়ার দিকে যাত্রা শুরু করে।

পথে যেতে যেতে মেজর মোজাফফরের মনে ফিরে আসে অতীতের নানা ঘটনা। প্রতিবেদনে ১৯৭৬ সালের ফারুক-রশীদ সংশ্লিষ্ট অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা, সাভার ও বগুড়া সেনানিবাসের সংকট এবং সেসব পরিস্থিতিতে জিয়াউর রহমানকে রক্ষায় তাঁর ভূমিকার বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া ১৯৭৭ সালের বিমানবাহিনীর বিদ্রোহের সময়ও মেজর মোজাফফরের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে জিয়াউর রহমান নিরাপদ ছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই ঘটনার পর জিয়া নিজে ৮ম বেঙ্গল রেজিমেন্টে গিয়ে তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন বলেও লেখক উল্লেখ করেন।

পরে কাপ্তাই সড়কের পাথরঘাটা এলাকার একটি নির্জন স্থানে, দুটি খেজুর গাছের পাশে স্থানীয় এক মাদ্রাসার ইমামকে দিয়ে জানাজা সম্পন্ন করে একই কবরে জিয়াউর রহমানসহ তিনজন সামরিক কর্মকর্তার মরদেহ দাফন করা হয় বলে প্রতিবেদনে বর্ণনা রয়েছে। স্থানীয়দের কাছে পরিচয় গোপন রেখে বলা হয়েছিল, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর হামলায় নিহত তিন সেনা কর্মকর্তাকে সেখানে দাফন করা হচ্ছে।

এই বিবরণগুলো ইরতিজা নাসিম আলীর অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ, যা প্রথম ১৯৯৪ সালের ৩০ মে থেকে তৎকালীন দৈনিক ভোরের কাগজ-এ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে লেখকের অনুমতি নিয়ে তা পুনঃপ্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লিখিত ঘটনাবলি লেখকের অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত; এগুলোর সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।