[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

দুর্নীতিতে জড়ালে ব্যবস্থা”: দিঘলিয়ার উন্নয়ন কাজে কঠোর বার্তা আজিজুল বারী হেলালের


sohel প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন /
দুর্নীতিতে জড়ালে ব্যবস্থা”: দিঘলিয়ার উন্নয়ন কাজে কঠোর বার্তা আজিজুল বারী হেলালের

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার দিঘলিয়া।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন, ২০২৬) দিঘলিয়া উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, দিঘলিয়ার উদ্যোগে এ কংগ্রেসের আয়োজন করা হয়। “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক ও আইএফএডি-এর সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস কে আজিজুল বারী হেলাল। তিনি বলেন, কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই খাতে পরিণত করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং কৃষি উন্নয়নে নিজে কোদাল হাতে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “তারেক জিয়ার বিএনপি দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নের বিএনপি। আমরা দুর্নীতিমুক্ত দিঘলিয়া দেখতে চাই।”
স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, উপজেলায় কাবিখা, কাবিটা, এডিপিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হয়। এসব কাজে কেউ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে কঠোর তদারকির জন্য তিনি ইউএনও, প্রকৌশলী ও পিআইওকে নির্দেশ দেন।
প্রধান অতিথি ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং পরে অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বিভিন্ন কৃষি স্টল পরিদর্শন করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা খামারবাড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মোল্লা খায়রুল ইসলাম, এনামুল হক সজল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আজগর আলী, রেজাউল ইসলাম রেজা, ইমতিয়াজ আলী সুজন, মাহমুদ হাসান, হাসিবুর রহমান সাদ্দাম, দিঘলিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. সাইফুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মল্লিকসহ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান এবং সঞ্চালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কপিল দেব বসাক। এ সময় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার মণ্ডল, মোঃ মনিরুল ইসলাম, আশিক কুমার বসুসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনার উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহনশীল জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাশ গুপ্ত। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষক, কৃষি বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রধান অতিথির দুর্নীতিমুক্ত দিঘলিয়া গড়ার আহ্বান বাস্তবায়নে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণী, কৃষি উদ্যোক্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কৃষকদের সফলতা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং পুষ্টিবান্ধব কৃষি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Bangla Photocard Generatorv3.7