

মোঃআইয়ুব আলী , লালপুর (নাটোর)প্রতিনিধি:নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান “লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়” আজ চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়ানো বিদ্যাপীঠটি বর্তমানে তীব্র অবকাঠামোগত সংকট ও জলাবদ্ধতায় জর্জরিত। স্থানীয়দের অভিযোগ—রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা ও বড় বড় সভার জন্য স্কুলের মাঠ নিয়মিত ব্যবহার করা হলেও, প্রতিষ্ঠানের মূল সমস্যা সমাধানে কোনো টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসরুমে হাঁটু পানি, বন্ধ পড়াশোনাসরেজমিনে দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের মাঠ ছাড়িয়ে ক্লাসরুমের ভেতরে হাঁটু পানি জমে যায়। ফলে দিনের পর দিন শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অপরিচ্ছন্ন ও নোংরা পানি জমে থাকায় ছড়াচ্ছে মশা ও দুর্গন্ধ, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ক্লাসরুম সংকট থাকলেও নতুন কোনো ভবন বা স্থায়ী সমাধান মেলেনি।সস্তা প্রচারণা বনাম প্রকৃত উন্নয়নস্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের দাবি, রাজনৈতিক নেতারা নিয়মিত এই স্কুল প্রাঙ্গণে এসে বড় বড় প্রোগ্রাম, জনসভা এবং দীর্ঘ বক্তব্য দিয়ে যান। কিন্তু এত বড় বড় ইভেন্ট হওয়ার পরও স্কুলের প্রকৃত উন্নয়ন নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। নেতাদের রাজনৈতিক প্রচারণা শেষে মাঠ ফাঁকা হয়ে গেলেও, ক্লাসরুমের পানি সরানোর মতো কোনো স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা আজ পর্যন্ত গড়ে তোলা হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে কেবল “রাজনৈতিক মাঠ” হিসেবে ব্যবহার করায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মনে।”কাছেই আলো, অথচ নিচে অন্ধকার”শতবর্ষী এই বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ ও সরকারের উচ্চপর্যায়ে বড় বড় আমলা, সচিব, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োজিত আছেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, নিজের হাতেখড়ির এই প্রতিষ্ঠানটি যখন আজ অস্তিত্ব সংকটে, তখন অনেক প্রাক্তন সফল শিক্ষার্থী ও গুণীজনদের এর খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করছেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিবিদ্যালয়টিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এলাকার সাধারণ মানুষ, অভিভাবক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রাক্তন সফল শিক্ষার্থীদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।তাদের স্পষ্ট বার্তা: “অনতিবিলম্বে সস্তা প্রচারণার ঊর্ধ্বে উঠে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠটিকে বাঁচাতে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নতুন ভবন নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ নিন।” অন্যথায় এই অঞ্চলের প্রাচীনতম শিক্ষার আলোটি চিরতরে নিভে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা।#মোঃআইয়ুব আলী# লালপুর সংবাদদাতা#নাটোর #মোবাইল নং-০১৭৪০৮৭৬০৮০।
আপনার মতামত লিখুন :