

জীবন দেওয়ান উজ্জ্বল নিজস্ব সংবাদদাতা
বস্তা পরিবর্তন, বিক্রির বৈধতা ও চালের উৎস নিয়ে প্রশ্ন; সুষ্ঠু তদন্তের দাবি এলাকাবাসী
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ (হাইসিকিউরিটি) থেকে প্রায় ১ হাজার কেজি চাল বাইরে আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কারাগারের ভেতর থেকে ইজিবাইক ভ্যানে করে চাল বের করার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪০ বস্তা, মোট প্রায় ১ হাজার কেজি চাল জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
জানা যায়, বুধবার (১৭ জুন) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে একটি ইজিবাইক ভ্যানে করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪ থেকে চাল বের করা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ভ্যানটির গতিরোধ করে চালের উৎস সম্পর্কে জানতে চান।
ভ্যানচালক সোহাগ জানান, তিনি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোড়ক পরিবর্তন করা চালের বস্তা নিয়ে এসেছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত মো. মনির হোসেন সাংবাদিকদের জানান, তিনি কারাগারের গুদামের দায়িত্বে থাকা নাজিরুল ইসলামের কাছ থেকে চালগুলো কিনেছেন। সাংবাদিকরা জানতে চান, এ বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ অবগত কি না। জবাবে মনির দাবি করেন, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানেন এবং জেলার মামুন ও গুদাম কর্মকর্তা নাজিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। পরে সাংবাদিকরা নাজিরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত আর উপস্থিত হননি।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে অবস্থানকালে মনির হোসেন বিভিন্ন স্থানীয় নেতা ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে একাধিকবার ফোন করে তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে কোনাবাড়ী মেট্রো থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ চালবোঝাই ৪০টি বস্তা জব্দ করে থানায় নিয়ে যায় এবং বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার পর কারাগার থেকে বের হওয়া চালের প্রকৃত উৎস, বিক্রির বৈধতা, সরকারি রেশন সামগ্রী বাইরে বিক্রির নিয়ম এবং কেন চালের বস্তা বা মোড়ক পরিবর্তন করা হয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই মনির হোসেন কম দামে সরকারি রেশন সামগ্রী সংগ্রহ করে বস্তা পরিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন নামে বাজারে বিক্রি করে আসছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, একই ধরনের অভিযোগে এর আগে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীকে কালোবাজারির অভিযোগে লালমনিরহাট কারাগারে বদলি করা হয়েছিল। ফলে সর্বশেষ এ ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-৪-এর ডেপুটি জেল সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনের অতিরিক্ত রেশন বিক্রির সুযোগ রয়েছে। তবে বস্তা বা মোড়ক পরিবর্তনের কোনো বিধান নেই।” অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকিও দেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জব্দ হওয়া চালের প্রকৃত উৎস, সরকারি সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া, বস্তা পরিবর্তনের কারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কারা অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা বা লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।প্রকাশের আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য বা কারা অধিদপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হবে।
আপনার মতামত লিখুন :