

আমাদের জন্মভুমি ডেক্স
মহাপরিচালক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর দিক নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধভাবে চোরাচালানী মালামাল, মাদকদ্রব্য কিংবা নারী ও শিশু পাচার করতে না পারে, সে লক্ষ্যে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) এর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যগণ কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা বৃদ্ধি করে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ২১০০ ঘটিকায় ইউসুফপুর বিওপি’র টহল দল টহল চলাকালীন সময় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চারঘাট থানাধীন ইউসুফপুর নামক এলাকা দিয়ে চোরাচালানী মালামালের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আম বাগানের ভিতরে ওৎ পেতে থাকে। দীর্ঘসময় ওৎ পেতে থাকার এক পর্যায়ে টহল দল দেখতে পায় যে, দুইজন চোরাকারবারী একটি বস্তা নিয়ে আম বাগানের দিকে আসছে। তৎক্ষণাৎ তাদেরকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি’র টহল দল কর্তৃক বস্তাটি তল্লাশী করে ৬৯ বোতল বাংলাদেশী জিনসিন সিরাপ, ২৪ বোতল কসপা সিরাপ এবং ৪৯ বোতল জোস ফ্রুফ সিরাপ (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত সিরাপ চারঘাট থানায় জমা দেয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
একই দিনে রাত্রি আনুমানিক ২৩৩০ ঘটিকায় চরমাজারদিয়া বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, দামকুড়া থানাধীন হাজির বাতান পশ্চিম পাড়া নামক এলাকায় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য লুকানো অবস্থায় রয়েছে। তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আভিযানিক দল দেখতে পায় একটি আম গাছের গোড়ায় নতুন মাটির স্তুপ। বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে আভিযানিক দল মাটির স্তুপের মাটি সরারে একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। পরবর্তীতে পলিথিনটি খুললে তার মধ্য হতে *১৮০ পিস ভারতীয় ট্যাপেনটাডল ও ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট* (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মাদকদ্রব্য দামকুড়া থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
এছাড়াও অদ্য ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ০৩৫০ ঘটিকায় খরচাকা বিওপি’র আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দামকুড়া থানাধীন কসবা নামক এলাকার নিকটস্থ আম বাগানের মধ্যে অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ফাঁদ পেতে থাকে। ফাঁদ পেতে থাকার এক পর্যায়ে বিজিবি’র আভিযানিক দল হতে কিছুটা দূরে লোকজনের আনাগোনা শুনতে পায় এবং ঘটনা যাচাই করার জন্য সুকৌশলে অগ্রসর হলে বিজিবি’র আভিযানিক দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকরাবারীরা তাদের নিকট থাকা ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। পরক্ষনে আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কাউকে দেখতে না পেয়ে আশেপাশে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশীর এক পর্যায়ে আভিযানিক দল একটি ব্যাগ দেখতে পায় এবং ব্যাগটি গুলো খুললে তার মধ্য হতে *৫,০০০ পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স এবং ২,০০০ পিস এলইডি লাইট* (মালিকবিহীন) জব্দ করতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত মালামাল রাজশাহী শুল্ক অফিসে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
আপনার মতামত লিখুন :