পূর্বাহ্ণ ১০:৫৫
বৃহস্পতিবার
১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজে পুরুষ নির্যাতনকারী মহিলার অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসছে


sohel প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ন /
রাজশাহীর দাওকান্দি কলেজে পুরুষ নির্যাতনকারী মহিলার অনেক গোপন তথ্য বেরিয়ে আসছে

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীতে মারধর করে আলোচিত নারী শিক্ষিকার নিয়োগে ভয়াবহ জালিয়াতি, অন্যের ইনডেক্সে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ

রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে কয়েক ব্যক্তিকে মারধর করে আলোচিত নারী শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। কলেজের জনবল কাঠামোয় অনুমোদন না থাকলেও তাঁকে সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের প্রদর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে দীর্ঘদিন তিনি এমপিওভুক্ত হতে পারেননি। অন্যের ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি এমপিওভুক্ত হন।
সরকারের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত কলেজ অধ্যক্ষের সহযোগিতায় আলেয়া খাতুন অবৈধভাবে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা বেতন ভাতা তুলে আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবেদনে সরকারি কোষাগার থেকে তোলা আলেয়া খাতুন হীরার বেতন ভাতার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। এছাড়া জালিয়াতির মাধ্যমে করা তাঁর এমপিও বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোছা. আলেয়া খাতুন (ইনডেক্স-৮৪৫৪১০) সাচিবিক বিদ্যা ও অফিস ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রদর্শক পদে ২০০২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর দাউকান্দি ডিগ্রি কলেজে যোগদান করেন। তখনও কলেজটি জাতীয়করন হয়নি।
কলেজে আলেয়া খাতুনের নিয়োগের রেকর্ড যাচাইয়ে দেখা যায়, ২০০২ সালের ১৮ জানুয়ারি শুধুমাত্র রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। জাতীয় পত্রিকায় এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। আলেয়া খাতুন ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক পদের জন্য আবেদন করেন। ৮ মে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে মাউশির প্রতিনিধি ছিলেন রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শিরিন সুফিয়া খানম। ১৯৯৫ সালের ২৪ অক্টোবর ও ২০১০ সালের র ফেব্রুয়ারির জনবল কাঠামোয় সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক/প্রশিক্ষকের প্রাপ্যতা না থাকায় তিনি দীর্ঘদিন এমপিওভুক্ত হতে পারেননি।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে আগে থেকে চামেলী খাতুন নামে একজন প্রশিক্ষক কর্মরত ছিলেন। আলেয়া খাতুন ২০১৮ সালের জুলাইয়ে চামেলী খাতুনের ইনডেক্স নম্বর ৮৪৫৪১০-এ এমপিওভুক্ত হন। চামেলী খাতুন প্রশিক্ষক পদ থেকে চলে যাওয়ার পরও কলেজের এমপিও শিট থেকে চামেলী খাতুনের নাম কর্তন করা হয়নি। ফলে চামেলী খাতুন এর ইনডেক্স নম্বর ৮৪৫৪১০-এ বরাদ্দ করা সরকারি বেতন ভাতার অংশ আলেয়া খাতুন ২০০৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে তুলে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান প্রধানের সহযোগিতায় তথ্য গোপন করে তিনি ২০ লাখ ৫১ হাজার ৮১৩ টাকা আত্মসাত করেছেন।
উল্লেখ্য, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এ উল্লেখ আছে, পদার্থ, রসায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণীবিজ্ঞান বিষয়ে ল্যাব চালু থাকলে প্রতি বিষয়ে একজন করে প্রদর্শক প্রাপ্য। কিন্তু সাচিবিক বিদ্যা বিভাগের প্রদর্শক/ প্রশিক্ষকের উল্লেখ নেই। তথ্য ও ছবি : সংগৃহীত।