[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল জাহিদ, চিকিৎসক হতে চায়!


sohel প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৫, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন /
দারিদ্র্যকে জয় করে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল জাহিদ, চিকিৎসক হতে চায়!

সাধন সাহা জয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। বাবা দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। তবুও সব প্রতিকূলতা আর দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতি সন্তানের স্বাক্ষর রেখেছে মো. জাহিদ হোসেন।

সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে।

​জাহিদ কসবা উপজেলার আড়াইবাড়ি গ্রামের দরিদ্র মো. আলাউদ্দিন ও দম্পতি গৃহিণী মায়ের সন্তান। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে তৃতীয়।

​জানা গেছে, জাহিদের বাবা মো. আলাউদ্দিন একজন রাজমিস্ত্রির সহযোগী (দিনমজুর) হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা দূর করতে অতীতে ধারদেনা করে বড় ভাইকে প্রবাসে পাঠানো হলেও তিনি এখনো সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেননি।

পরিবারের সব সদস্য মিলে বসবাস করেন একটি মাত্র টিনের ঘরে। এমন টানাপোড়েনের সংসারেও জাহিদ তার পড়াশোনা চালিয়ে গেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে।

​পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০সহ সে মোট ১১৩১ নম্বর অর্জন করেছে।

তার এই সাফল্যে পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। পাশাপাশি খুশি প্রতিবেশী, শিক্ষকসহ স্থানীয় সুধীজনরা।
​নিজের সাফল্যের পেছনের গল্প শুনিয়ে জাহিদ হোসেন বলে, “নিয়মিত ও মনোযোগী হয়ে পড়াশোনা করার কারণেই আমার এই ভালো ফল এসেছে।

স্কুলের শিক্ষকরা আমাকে ভীষণ সহযোগিতা করেছেন। আমার ইচ্ছে আছে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার।”

​ছেলের এমন সাফল্যে আবেগাপ্লুত বাবা মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমাদের অভাবের সংসার। কিন্তু ছেলের পড়ার আগ্রহ দেখে কষ্ট করে হলেও পড়ালেখার খরচ জুগিয়েছি।

স্কুলের শিক্ষকরা খুব সহযোগিতা করেছেন। ছেলের এই সাফল্যে আজ আমার সব কষ্ট মুছে গেছে।”

​কসবা পৌর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, “জাহিদ অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের এক মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নানা সীমাবদ্ধতা ও কষ্টের মধ্যেও সে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছে।

তার এই ফলাফল আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাকে সবসময় সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে। আমরা তার ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করি।”

Bangla Photocard Generatorv3.7