

মোঃমাসুদ স্টাফ রিপোটার নরসিংদী
সীমা বেগম। বরিশালের খানপুরা উপজেলার রাজগুরু গ্রামের মন্টো হাওলাদারের মেয়ে।২০১৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে দোলাভাইয়ের ব্যবসায়িক সম্পর্কের জের ধরে বিয়ে হয় নরসিংদী মাধবদীর নরেসুশ্বরদি গ্রামের রমজান মিয়ার সাথে। ২০১৬ সালে প্রথম সন্তান রোহান তার কোলে আসে। এরপর থেকে স্বামী রমজানের আসল রূপ প্রকাশ পায়। শাহিদা নামের এক মেয়ের সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে গোপনে শাহিদাকে বিয়ে করে। সীমা যখন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ঠিক তখনই দ্বিতীয় স্ত্রী শাহিদাকে মেনে নেওয়ার জন্যে রমজান তার উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালায়। এক সময় সীমা বাধ্য হয়ে তার সতীন শাহিদাকে নিজে গিয়ে নিয়ে আসে এবং তার ঘরে জায়গা দেয়। এর কয়েক মাস পর ২০২১ সালে মেয়ে তানহার জন্ম হয়। ২০২৩ সালে সীমার তৃতীয় সন্তান মোহাম্মদ ইসলামের জন্ম হয়। তৃতীয় সন্তান জন্মের পর রমজান শিবপুর উপজেলার লামপুর গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার মেয়ে তরুয়া নগর হাসপাতালের নার্স নাসরিনের সাথে পরোকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর রমজন দক্ষিণ কোরিয়া চলে যায়। দক্ষিণ কোরিয়া চলে আসার পর রমজান সীমা ও তার সন্তানদের ভরণপোষণ বন্ধ করে দেয়। তবে দ্বিতীয় স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে থাকে। এই নিয়ে ফোনে সব সময়ই রমজানের সাথে সীমার ঝগড়া হতো। এই অবস্থায় গত জানুয়ারি মাসে রমজান নাসরিনের পরামর্শে সীমাকে খুন করার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে প্রেরণ করে। রাতের বেলা দরজা ভেঙ্গে তিন জন খুনী সীমাকে প্রথমে লৌহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে পরে চাপাতি দিয়ে পায়ে কোপ দেয়। এরপর তাকে ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। ছেলে রোহানের চিৎকারে লোকজন ছোঁটে আসলে খুনীরা পালিয়ে যায়। লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় সীমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর সীমা সুস্থ হয়ে প্রাণের ভয় ও আর্থিক দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে তিন সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে চাকরি নেয়।
গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে ৪/৫ জন সীমার বাসায় ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক সীমার তিন সন্তানকে অপহরণ করে। সীমা পারিবারিক ওসামাজিকভাবে বহু চেষ্টা করে তার সন্তানদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে ১৮ মে নরসিংদী জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্টেট আদালতে নাসরিন, সাইফুল, সাব মিয়া, গুলজার হোসেনের নাম উল্লেখ করে অপহরণ মামলা দায়ের করে।
আদালত শিবপুর মডেল থানাকে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে দ্রুত শিশুদের উদ্ধারের নির্দেশ দেয়।
আপনার মতামত লিখুন :