অপরাহ্ণ ০২:৩৫
মঙ্গলবার
১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা লোপাট, চসিক ও ব্যাংক কর্মকর্তা সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদক (চট্টগ্রাম) এর মামলা


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ন / ০
রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা লোপাট, চসিক ও ব্যাংক কর্মকর্তা সহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে দুদক (চট্টগ্রাম) এর মামলা
শুনুন বাংলায় Ready

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : ভুয়া বিল তৈরি করে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আসামিদের মধ্যে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও সীমান্ত ব্যাংকের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ও রয়েছেন।
২৬ অক্টোবর (সোমবার) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ বাদী হয়ে মামলাটি করেন দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন।
মামলার আসামিরা হলেন- রেলওয়ের অস্থায়ী কর্মচারী মোঃ হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মোঃ মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মোঃ সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মোঃ আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মোঃ মাকসুদুর রহমান।
এ ছাড়া চসিকের লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে ও আসামি করা হয়েছে।
সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির সাবেক কর্মকর্তা মোঃ পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার নির্দেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ারও মামলার আসামি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ‌‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
জাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেলওয়ের ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন কর্পোরেশন’ এর নামে খোলা একটি হিসাবে জমা দেয়া হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেয়া হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টার ও অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া চসিক থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে শ্রমিক পরিচয় দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
দুদকের অভিযোগ, পরিচয় পত্রের ছবি ও স্বাক্ষরে অসংগতি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই করেননি। এ ছাড়া দি কসমোপলিটন কর্পোরেশনের মালিক নাবিল আহসান সোহাগ আলী নামের ব্যক্তিকে চেনেন না এবং তিনি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত প্রতিনিধি নন বলে ও জানিয়েছেন।
জাগো নিউজ’র তথ্যসূত্র মতে, দুদকের উপ-পরিচালক মোঃ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান কালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তা ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।

2

2