
মোঃ সোহেল রানা রাজশাহী প্রতিনিধি
পদ্মাপাড়ে পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে পরিচিত রাজশাহীতে বর্তমানে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশারি বা কয়েল ব্যবহার করেও মিলছে না কোনো নিস্তার। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন নগরবাসী। এদিকে মশার উপদ্রব মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের অলিগলি, বাসাবাড়ি এবং ড্রেন-নর্দমার পাশে মশার উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরের ভেতর এবং বাইরে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা আক্রমণ করছে। অনেক এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো বা ফগিং করার কোনো দৃশ্য চোখে পড়ছে না। ড্রেন ও জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এবং কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় সেখানে মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজ শিক্ষক জানান, “সন্ধ্যা তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেও ঘরে টেবিলে বসে পড়াশোনা করা বা কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মশার উপদ্রবে টেকা দায়।”
ভুক্তভোগী নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর এই সময়ে মশার উৎপাত বাড়লেও সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন কার্যক্রম থাকে অত্যন্ত ধীরগতির এবং লোক দেখানো। নির্দিষ্ট সময়ে পর্যাপ্ত লার্ভিসাইড ও ফগিং না করায় দিন দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সচেতন মহল মনে করছেন, এখনই বড়ো ধরনের কোনো মহামারি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে হলে অবিলম্বে সমন্বিত ও কার্যকর মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা অত্যন্ত জরুরি। ড্রেন পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং কার্যকর ফগিং মেশিন দিয়ে পুরো মহানগরীতে মশা নিধনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তারা।
দ্রুত এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ নগরবাসী
আপনার মতামত লিখুন :