
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর ৮৫টি পূজামণ্ডপে মোট ১৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। প্রতিটি মণ্ডপকে ২০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।মানচিত্র দেখুন
রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় নগর ভবনের সিটি হল সভাকক্ষে দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মণ্ডপগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করাই সবার লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। রাসিকের পক্ষ থেকেও পূজা উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীকে গ্রিন ও ক্লিন সিটির পাশাপাশি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা। এ লক্ষ্য অর্জনে নগরবাসীসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
মতবিনিময় সভায় পূজামণ্ডপের নেতৃবৃন্দ ওয়াইফাই সংযোগের দাবি জানান। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিটি মণ্ডপে ওয়াইফাই সংযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন রাসিক প্রশাসক।
সভায় বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফারুক হোসেন। সভা সঞ্চালনা করেন রাসিকের সচিব সোহেল রানা।মানচিত্র দেখুন
এ সময় রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এফএএম আঞ্জুমান আরা বেগম, বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের রাজশাহী মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার সাহা, আরডিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআরবি-৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন, প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, মণ্ডপ ও বিসর্জনঘাটে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং আশপাশের সড়ক মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা, বিসর্জনঘাটে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েন এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।
রাজশাহী মহানগরীর যে ৮৫টি পূজামণ্ডপে অনুদান প্রদান করা হলো, সেগুলো হচ্ছে- ভেড়ীপাড়া পুলিশ লাইনের সামনে কেশবপুর শিবমন্দির, বুলনপুর শিবমন্দির কমিটি, রাজশাহী কোর্ট হড়গ্রাম মন্দির, বুলনপুর হরিজন পল্লীর শ্রী শ্রী শিবমন্দির, লক্ষীপুর বাগানপাড়ার শ্রী শ্রী দুর্গামাতার মন্দির, আইডি বাগানপাড়ার শিব নারায়ন সংঘ, শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ বিদ্যা মন্দির, লক্ষীপুরের শ্রী রবিদাস ভক্ত মন্দির, বেতিয়াপাড়া পার্কের গেট সংলগ্ন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, শ্রীরামপুর শিবমন্দির, চন্ডীপুরের কালীমাতার মন্দির, ফায়ার ব্রিগেড মোড়স্থ, নতুন সংঘ পূজা উদযাপন কমিটি, কাদিরগঞ্জের কালীমাতার মন্দির, রাজারহাতার কালীমাতার মন্দির পূজা কমিটি, শিবমন্দির পূজা কমিটি, হেতমখাঁ হরিজন শিবমন্দির কমিটি, শেখপাড়া শ্রী শ্রী দুর্গামাতার মিলন মন্দির, গণকপাড়াস্থ রাজশাহী ধর্মসভা, জিরোপয়েন্টের শ্রী শ্রী গোপিনাথ দেব বিগ্রহ লক্ষী নারায়ন মন্দির হনুমান জিউর আখড়া, ঘোষপাড়ার পদ্মা সার্বজনিন পূজা কমিটি, কুমারপাড়ার কাবিরাজবাড়ী আনন্দময়ী পূজা মন্দির, কুমারপাড়ার সনাতন ধর্ম সংঘ, ফুদকিপাড়ার কালীমাতা মন্দির, গনকপাড়ার বৈষ্ণব সভা, মালোপাড়ার শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন দেব বিগ্রহ মন্দির, রানীবাজার টাইগার সংঘ, রাণীবাজার (তারিনি মিত্রের মাঠ) টাইগার পূজা কমিটি, রাণীবাজার এ্যারোহেড ক্লাব, বোয়ালিয়া পাড়ার লাঠিয়াল মন্ডপ, রামকৃষ্ণ আশ্রম, নবরুপ পূজা কমিটি, সাহেব বাজার কালিমাতার মন্দির, ফুদকিপাড়া মুন্নুজান স্কুলের সামনে কল্পতরু, ফুদকীপাড়ার গীতাঞ্জলী, কুমারপাড়ার মাতৃছায়া, ফুদকিপাড়ার আম্বিকা সংঘ, কুমারপাড়ার ঘোষপাড়া অগ্নিবিনা সংঘ, ষষ্ঠীতলার আদি কালিস্থান দুর্গা মন্দির, ষষ্টিতলার শিব মন্দির, রেলগেট হরিজন পল্লীর সৎ সংঘ পূজা উদযাপন কমিটি, মালদাকলোনীর করুণাময়ী সংঘ, সপুরার শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবা মন্দির, ওমরপুর পূজা কমিটি, নওদাপাড়ার শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী মন্দির, মথুরডাঙ্গা পবাপাড়ার চর্তুবেদী সার্বজনীন মন্দির, সুজানগরের বুদ্ধেশ্বর মন্দির, রেশমপট্টির দিগন্ত সার্বজনিন মন্দির কমিটি, বেলদারপাড়ার স্বপ্ন কুঠির, সুলতানাবাদের দেবালয় পূজা কমিটি, বোয়ালিয়াপাড়ার কারুশ্রী, অলকার মোড়ের রীঁ বরদা মাতা মন্দির, ঘোড়ামারার জোড়া শিব মন্দির, আলুপট্টির
এছাড়াও আলুপট্টির কসমস পূজা কমিটি, ঘোড়ামারার লক্ষী নারায়ন মন্দির-পাঁচু মন্ডল আখড়া মন্দির, বোয়ালিয়া থানার মোড়স্থ উৎস্বর্গ সংঘ, শাহ মখদুম কলেজের সামনে বড়পুকুর সংলগ্ন আরাধনা পূজা উদযাপন কমিটি, ঘোড়ামারা স্বর্নকারপট্টীর চন্দ্রমনি সংঘ, সাগরপাড়ার শিবালয় পূজা কমিটি, সাগরপাড়ার দেব মাতা সংঘ, সাগরপাড়ার মা জননী সংঘ, সাগরপাড়ার আরণ্যক পূজা কমিটি, ঘোড়ামারার প্রতিশ্রুতি সারদীয় দুর্গাপূজা কমিটি, কুমারাপাড়ার মহামায়া সংঘ, সাগরপাড়ার মেঘদূত সংঘ, সাগরপাাড়ার বরেন্দ্র গোষ্ঠী, কুমারপাড়ার প্যারাডাইস টাওয়ারস্থ রাধা কান্ত মন্দির, সাগরপাড়ার আচার্য্যধাম পূজা উদযাপন কমিটি, কুমারপাড়ার সংঘ চলো ঠাকুর দেখি, সেখের চকের নিহারিকা পূজা কমিটি, সেখেরচকের গঙ্গা মন্দির পূজা কমিটি, সেখেরচকের পারিজাত সংঘ পূজা কমিটি, শাহ মখদুম কলেজ সংলগ্ন ত্রিনয়নী সংঘ উদযাপন কমিটি, সেখেরচকের পূজা উদযাপন কমিটি, বোসপাড়ার শারদ সংঘ, বোসপাড়ার শঙ্খচূড়া সার্বজনিন পূজা উদযাপন পরিষদ, তালাইমারী কালিমাতার মন্দির, রামচন্দ্রপুর কালীমাতার মন্দির, পদ্মা আবাসিক পূজা উদযাপন পরিষদ, মেহেরচন্ডীর শ্রী শ্রী গোপাল দেব ঠাকুর মন্দির, কাজলার সনাতন ধর্ম সংঘ, ডাঁশমারী শিবমন্দির, খোজাপুর সার্বজনিন শিব ও কালিমাতা মন্দির, মির্জাপুরে হিন্দু মৈত্রী সংঘ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হরিজন কোয়াটারের শিবমন্দির নতুন জাগরন পূজা কমিটি।
আপনার মতামত লিখুন :