অপরাহ্ণ ০৬:০৯
শনিবার
২৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাকা না দিলে আটকে থাকে খারিজের ফাইল! নিয়ামতপুর চন্দননগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মাহবুবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১০, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ন / ০
টাকা না দিলে আটকে থাকে খারিজের ফাইল! নিয়ামতপুর চন্দননগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মাহবুবের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ
শুনুন বাংলায় Ready

নিজস্ব প্রতিবেদক:সাগর,
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া-চন্দননগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব মাহবুবের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জমির নামজারি বা খারিজ করতে ৭ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাগজপত্রে নানা ধরনের ভুলত্রুটি দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয় এবং নথিপত্র সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো হয় না।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, বাইরের কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদন করার পর ভূমি অফিসে গেলে বিভিন্ন ভুল দেখিয়ে হয়রানি করা হয়। তাঁদের দাবি, টাকা দিতে রাজি হলে কাগজপত্রের ভুলত্রুটি নিয়ে আর আপত্তি তোলা হয় না। কিন্তু টাকা না দিলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়।
এ ছাড়া ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা। তাঁদের দাবি, নায়েবকে টাকা দিলে কম খাজনা দিতে হয়, আর টাকা না দিলে বেশি খাজনা দিতে হয়।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জমির শ্রেণি, পরিমাণ, সরকারি করের নির্ধারিত হার ও দাখিলা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ভূমি অফিসের ডান পাশের একটি কক্ষে দরজা বন্ধ করে টাকা লেনদেন করা হয়। তাঁদের দাবি, ওই কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা নেই এবং অফিসের সহায়তাকারীদের মাধ্যমেও লেনদেন হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে নায়েব মাহবুবের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি টাকা লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেন বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী সিরাজুল ও স্থানীয় এক শিক্ষকের অভিযোগ, ভূমি অফিসে নামজারির কাজ করতে গিয়ে নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। তাঁদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা না দিলে কাগজপত্রে ভুলত্রুটি দেখিয়ে ফাইল আটকে রাখা হয়। এ ঘটনায় তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্থানীয় কেউ তাঁর কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নামজারির ফাইলের অগ্রগতি যাচাই এবং ভূমি উন্নয়ন করের হিসাব পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও হয়রানিমুক্ত ভূমিসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

2

2