পূর্বাহ্ণ ০৪:২৮
শুক্রবার
১৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে বেপরোয়া কুকুরের দাপট: আতঙ্কে নগরবাসী, আইনি বাধ্যবাধকতায় হাত গোটাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১, ২০২৬, ৯:৩৬ অপরাহ্ন / ০
রাজশাহীতে বেপরোয়া কুকুরের দাপট: আতঙ্কে নগরবাসী, আইনি বাধ্যবাধকতায় হাত গোটাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন
শুনুন বাংলায় Ready

রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগরজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব। অলি-গলি থেকে শুরু করে মূল সড়ক—সবত্রই পথচারী ও স্থানীয়দের তাড়া করছে কুকুরের দল। ইতোমধ্যে পথচারী ও শিশুদের কামড়ানোর ঘটনা ঘটলেও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক)। ফলে চরম নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছেন নগরবাসী।
​স্থানভিত্তিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নগরীর সাহেববাজার, জিরোপয়েন্ট, লক্ষ্মীপুর, সিঅ্যান্ডবি মোড়, তালাইমারী, উপশহর, ভদ্রা, রেলওয়ে স্টেশন এলাকা এবং আবাসিক এলাকাগুলোর অলিতে-গলিতে দিন-রাত সব সময়ই বেওয়ারিশ কুকুরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে ভোরবেলা ফজর নামাজে যাওয়ার সময় ও রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পথচারীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন। দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল আরোহীরা।
​স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে সিটি কর্পোরেশন নির্দিষ্ট সময় পরপর জলাতঙ্ক প্রতিরোধে কিংবা উপদ্রব কমাতে কুকুর নিধন অভিযান চালাত। কিন্তু প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯ অনুযায়ী কুকুর নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করায় এখন আর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। কুকুর নিধনের পরিবর্তে বন্ধ্যাত্বকরণ (Sterilization) ও জলাতঙ্কের প্রতিষেধক টিকা (Rabies Vaccine) দেয়ার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত বাজেট ও জনবলের অভাবে সেই কার্যক্রমও বন্ধ বা ধীরগতিতে চলছে। এতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে কুকুরের বংশবৃদ্ধি।
​উপশহর এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্ধ্যার পর গলি দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের একা বের করা যাচ্ছে না। কিন্তু সিটি কর্পোরেশনে গিয়ে অভিযোগ করলেও তারা বলে, ‘আইনি নিষেধের কারণে আমাদের কিছু করার নেই।’ সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা ভেবে অন্তত বন্ধ্যাত্বকরণ বা নিয়ন্ত্রণমূলক কোনো দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।”
​রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী কুকুরের কামড়ের শিকার হয়ে ভ্যাকসিনের জন্য হাসপাতালে আসছেন। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালে মাঝে মাঝে ভ্যাকসিনের তীব্র সংকট দেখা দিলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে।
​এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “উচ্চ আদালতের নির্দেশ ও ‘প্রাণিকল্যাণ আইন ২০১৯’ অনুযায়ী কুকুর নিধন সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে নগরবাসীর দাবির পরও আমরা নিধন অভিযান চালাতে পারি না। তবে কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা মন্ত্রণালয় ও পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা করছি।”
​আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও স্থানীয়দের দাবি, জনস্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে অতি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিশেষ কোনো বিকল্প উদ্যোগ নিতে হবে। কার্যকর বন্ধ্যাত্বকরণ এবং কুকুরগুলোকে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের মতো দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ না নিলে রাজশাহীবাসীর এই আতঙ্ক দূর হবে না বলে মনে করছেন নগরবাসী।

2

2