
এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি
দৈনিক ‘কালবেলা’ পত্রিকার বরগুনা প্রতিনিধি কে পিছনে হাত রেখে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশি গ্রেপ্তার এবং আদালতে নেয়ার দৃশ্য দেখে ও কি কোনো সাংবাদিক বা সাংবাদিক নেতাদের বিবেক একটু নাড়া দেবে না?
সাংবাদিকতার পেশার ওপর এমন ধরনের কালিমা লেপন করা হচ্ছে কেনো? কার দোষ- সাংবাদিকের নাকি পুলিশের? দোষের উর্ধ্বে কোনো সাংবাদিক ও নয় যে সেই কথা ও সত্য। তবে, কোনো সাংবাদিক দোষ করলে সেটা প্রথমতো: সাংবাদিক নেতা বা প্রেসক্লাব কে অবহিত করে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার রাখতে হবে। এর বাইরে আইনগত পন্থায় সুযোগ দিতে হবে। একজন চোর-ডাকাতের মতো যেখান সেখান থেকে ধরে হাতে হাতকড়া লাগানো কি যেতে পারে?
সবশেষে বলা বাহুল্য যে, যাচাই বাছাই/বাদ বিচার ছাড়া আগামীতে যেনো যে কোনো পত্রিকা কর্তৃপক্ষ যার তার হাতে যেনো আইডি কার্ড তুলে দেয়া না হয় সে অনুরোধ রাখছি।
সরকার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তো বলা হয়েছিলো-যেনতেন আকারে কোনো মামলায় যাচাই বাছাই ছাড়া কোনো সাংবাদিক কে গ্রেপ্তার-হয়রানী করা যাবে না। তাহলে এই দৃশ্য দেখতে হচ্ছে কেনো?
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম এর চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ’র সভাপতি আহমেদ আবু জাফর। ঘটনার বিষয়ে নিন্দা প্রতিবাদ জানিয়ে দায় সেরে বসে না থেকে আগামীতে যেনো ওই রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে না পারে তার জন্য ও বিহিত ব্যবস্থা রাখতে হবে সংগঠনের পক্ষ থেকে এমনটা-ই মনে করেন সাংবাদিক সমাজ।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম’র নেতা আহমেদ আবু জাফর তার বিবৃতিতে বলেছেন- দৈনিক কালবেলা’র বরগুনা প্রতিনিধি আসাদ সবুজকে গতকাল গভীর রাতে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর দুই হাতে হাতকড়া পরিয়ে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তদন্ত, গ্রেপ্তার ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই। দূ:খজনক বিষয় হলো তাকে গ্রেপ্তার করে ডোপ টেস্ট করানো হয়। তবে টেস্টে মাদকাসক্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার, পরবর্তীতে ডোপ টেস্ট, পেছনে হাতকড়া ব্যবহার যা গোটা দেশের সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রয়োজনীয়তা, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক। কথিত একটি চাঁদাবাজি মামলায় কেবল সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা জনসমক্ষে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে হাতকড়া ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ মামলার অপরাপর ১০/১২ জন বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। তারা অধিকাংশ জামিনে রয়েছেন।
বাংলাদেশের পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB)-এর ৩৩০ প্রবিধানে হাতকড়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়তা ও সংযমের নির্দেশনা রয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অপ্রয়োজনীয় ভাবে হাতকড়া ব্যবহারের বিরুদ্ধে।
বিএমএসএফ মনে করে, একজন সাংবাদিকের হাতে হাতকড়া পরানোর আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে এর আইনগত ও বাস্তব প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে তাঁকে হাতকড়া পরানো হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে পুলিশের সিদ্ধান্ত কতটা আইনসম্মত ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিএমএসএফের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হাতকড়া ব্যবহারের আইনগত যৌক্তিকতা যাচাই, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত এবং কোনো ধরনের অমানবিক বা অপমানজনক আচরণ হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও মনে করে, সাংবাদিকের পেশাগত স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও মানবাধিকার সুরক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইন প্রয়োগের নামে সাংবাদিকসহ কোনো নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
সাংবাদিকের মর্যাদা রক্ষায় পুলিশের নিকট আইনসম্মত ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার দাবি করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :