
(বান্দরবান প্রতিনিধি:-মোঃ নুরুল আলম)
বান্দরবানের লামার মিরিঞ্জা পর্যটন এলাকায় অবস্থিত ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ জোরপূর্বক দখল, হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে হিল গ্রাজুয়েট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিসোর্টের অংশীদার সুলতান মাহমুদের পক্ষে অপর অংশীদার জাফর মিয়া। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, লামা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের কলিঙ্গা বিল এলাকার জাফর মিয়া এবং ৭নং ওয়ার্ডের বড় নুনারনবিল পাড়ার বাসিন্দা সুলতান মাহমুদ দীর্ঘদিন ধরে “মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট” এর অংশীদারির ভিত্তিতে পরিচালনা করে আসছিলেন। পূর্বে জমির মূল মালিক দুলাল মিয়ার সাথে জটিলতা নিরসন করে মো: রাসেল চৌধুরী নামক বিবাদী টাকা বুঝে নিয়ে অংশিদার থেকে বেরিয়ে যায়, এবং বাদী শেয়ার বুঝে নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে রাসেল চৌধুরীসহ একটি চক্র রিসোর্টের অংশীদারিত্ব দাবি করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদা দাবি করা শুরু করে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়: গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ২:০০ ঘটিকায় মো: রাসেল চৌধুরীর (যুবলীগ নেতা) নেতৃত্বে শিশির স্বপন চাকমা, সঞ্জিতা চাকমা, মো: আরিফুল ইসলাম (ছাত্রলীগ নেতা), শাহাব উদ্দিন, আলা উদ্দিন সহ ২০-৩০ জনের একটি সন্ত্রা’সী ও সশ’স্ত্র দল অবৈধভাবে রিসোর্টে প্রবেশ করে। তারা পূর্বে দাবিকৃত ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং আনুমানিক ১০,০০,০০০ (দশ লাখ) টাকার ক্ষতিসাধন করে।
হামলায় বাধা দিলে তারা মো. সুলতান মাহমুদ ও জাফর মিয়াকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে:
(১) একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল (মূল্য ৪৫,০০০ টাকা) (২) একটি অপ্পো মোবাইল (মূল্য ৩৫,০০০ টাকা) (৩) ৭৫,০০০ টাকা নগদ। (৪) আধা ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি (মূল্য ১,০৭,০০০ টাকা) লুট করে নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিবাদী রাসেল চৌধুরী রিসোর্টের ক্যাবল কেটে গলায় পেঁচিয়ে সুলতান মাহমুদকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।
দ্বিতীয় দফায় হামলা চালিয়ে, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাত ৮:০০ ঘটিকার দিকে সন্ত্রা’সী বাহিনী পুনরায় রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তা জোরপূর্বক দখল করে নেয় এবং হুমকি দেয় যে চাঁদার টাকা না দিলে রিসোর্ট ফেরত দেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনের দাবিসমূহ:
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদ সম্মেলনে নিম্নলিখিত ৩টি দাবি জানানো হয়:
(১) এজাহারভুক্ত প্রধান বিবাদী মো. রাসেল চৌধুরী, শিশির স্বপন চাকমাসহ সকল সন্ত্রা’সী ও চাঁদাবাজদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা। (২) জোরপূর্বক দখলকৃত ‘মিরিঞ্জা রয়েল হিল রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট’ উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করা। (৩) ভুক্তভোগী ও তাদের উদ্ধারকারীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে লামা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও রিসোর্টটি পুনরুদ্ধারে প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিবাদী করা হয়েছে:
(১) মো: রাসেল চৌধুরী (৩৫), (২) শিশির স্বপন চাকমা (৫০), (৩) সঞ্জিতা চাকমা (৪৫), (৪) মো: আরিফুল ইসলাম (৩০), (৫) শাহাবুদ্দিন (৩৫), ৬. আলা উদ্দিন (৫০), (৬) মো: শারিফুল (৪২), (৭) মো: শাহিন (৪২), (৮) রুবেল ত্রিপুরা প্রকাশ শ্যামল ত্রিপুরা (৩৫), (৯) সুভাষ ত্রিপুরা (৫৫), (১০) পুবন ত্রিপুরা (৩২), (১১) হেমরঞ্জন ত্রিপুরা (৩৫), (১২) রিংকু চাকমা (৩০) সহ সর্বমোট ২০/৩০ জন অজ্ঞাতনামা বিবাদী।
অভিযোগের বিষয়ে লামা থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ কাউছার হামিদ জানান, জিডি, অভিযোগ যেহেতু চলমান, আমরা এর আইনগত সকল কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। দোষী ও অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জায়গার মালিক দুলাল মিয়া, রিসোর্ট পরিচালনাকারী রিংরাও মুরুং, শাহাদাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, মো: আইয়ুব। মো: দুলাল মিয়া জানায়, বিরোধকৃত জায়গার মালিক আমি। আদালত ও তদন্ত কর্তৃপক্ষ আমার পক্ষে রায় দিলেও রাসেল চৌধুরী আমাকে বিতাড়িত করে। আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক রিসোর্ট দখল করে রাখে।
আপনার মতামত লিখুন :