

ইসমাইল হোসেন, খুলনা জেলা প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়ার সেনহাটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মাসুমা নামের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে বেত্রাঘাত করে গুরুতর অসুস্থ করার অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলামের (মহাসিন) বিরুদ্ধে। প্রহারে শ্রেণিকক্ষেই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে ওই ছাত্রী। পরবর্তীতে সহপাঠীরা তাকে তিনতলা থেকে নিচে নামিয়ে আনলে স্বজনরা এসে তাকে উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী ক্লাসে উপস্থিত হতে কিছুটা দেরি করায় শ্রেণি শিক্ষক মোঃ জসিম তাকে শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে না দিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে পাঠান। সকাল ৮:০২ মিনিটে প্রথম পিরিয়ড চলাকালে সহকারী প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষের সামনেই মেয়েটির হাতে বেত্রাঘাত করেন। আঘাত সহ্য করে ছাত্রীটি ক্লাসে গিয়ে নিজের আসনে বসে। তবে দ্বিতীয় পিরিয়ড চলাকালে (সকাল ৮:১৮ মিনিট) সে শ্রেণিকক্ষেই বেহুশ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সুবিচার চেয়ে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে দিঘলিয়া থানা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, “ছাত্রীটি দেরিতে আসায় শ্রেণি শিক্ষক তাকে আমার কাছে পাঠান। আমি তার হাতে হালকা দুটি বেত্রাঘাত করে ক্লাসে যেতে বলি। সে অসুস্থতার কথা জানায়নি এবং সুস্থ অবস্থায়ই ক্লাসে গিয়েছিল। বেত্রাঘাতের কারণে সে অসুস্থ হয়েছে—এই অভিযোগ সত্য নয়।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ ফরহাদ হোসেন সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে দাবি করেন, “উক্ত ছাত্রী প্রায়ই ক্লাসে দেরি করে আসে। সহকারী প্রধান শিক্ষক তাকে প্রতীকীভাবে হাতে দুটি বাড়ি দিয়ে ক্লাসে পাঠান। প্রথম পিরিয়ডের ঘটনায় মেয়ে টি অসুস্থ হয়েছে দ্বিতীয় পিরিয়ডে। অসুস্থ হওয়ার মতো আঘাত তাকে করা হয়নি; সে আগে থেকেই অসুস্থ ছিল এবং তিনতলায় দুইবার ওঠানামা করায় শারীরিক দুর্বলতার কারণে বেহুশ হয়ে পড়ে।”
এদিকে ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাশ গুপ্ত জানান, অভিভাবকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষক দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :