

জাহিদ হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার খুলনা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর বাজারে দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত থেকে মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন প্রবীণ চিকিৎসক ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার। বয়স এখন ৮০ বছর। তবুও থেমে নেই তাঁর চিকিৎসাসেবা। জীবনের দীর্ঘ সময় মানুষের পাশে কাটিয়ে আজও নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি।
শুধু চিকিৎসা পেশা নয়—মানুষের সেবা করার প্রত্যয়কে জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে নিয়েছেন ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার। দীর্ঘ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতায় গড়ে উঠেছে তাঁর নিজস্ব পরিচিতি। ডুমুরিয়ার রংপুর বাজারে তাঁর চিকিৎসাকেন্দ্রে স্থানীয় রোগীদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ চিকিৎসা ও পরামর্শ নিতে আসেন বলে জানা গেছে।
ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার ডি.এইচ.এম.এস (ঢাকা) ডিগ্রিধারী। তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরুটা ছিল সাফল্যের সঙ্গে। ১৯৬৬ সালে তিনি এসএসসি এবং ১৯৬৯ সালে ডিগ্রি পাস করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিষয়ক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হন।
দীর্ঘ চিকিৎসাজীবনে নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তাঁর। স্থানীয়দের ভাষ্য, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, আন্তরিকভাবে পরামর্শ দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে ডা. সুশীল কুমার জোদ্দারের প্রতি অনেক রোগীর আস্থা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চিকিৎসা ও পরামর্শ নিয়ে আসছেন।
রংপুর বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে একই এলাকায় চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাওয়ায় ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার এখন ওই এলাকার একজন প্রবীণ ও পরিচিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সংখ্যাও কম নয়।
নিজের দীর্ঘ পথচলা সম্পর্কে ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার বলেন, “মানুষের সেবা করার লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা পেশায় আছি। একজন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থতার পথে ফিরছেন—এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বয়স হয়েছে, তারপরও যতদিন সম্ভব মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যেতে চাই।”
সময়ের সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন এলেও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে নিজের পেশায় এখনও সক্রিয় এই প্রবীণ চিকিৎসক। জীবনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় মানুষের সেবায় কাটিয়ে ডা. সুশীল কুমার জোদ্দার আজ শুধু একজন চিকিৎসক নন—ডুমুরিয়ার রংপুর বাজারে দীর্ঘদিনের চিকিৎসাসেবার এক পরিচিত নাম।
পাঁচ দশকের এই পথচলা যেন তাঁর জীবনের এক দীর্ঘ মানবসেবার গল্প—যেখানে পেশার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয়।
আপনার মতামত লিখুন :