

নিজস্ব সংবাদদাতা
স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সুফল শহরের পাশাপাশি গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ রোগীর কাছেও পৌঁছাবে। শুধু বাজেট বাড়ালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরাদ্দের প্রতিটি টাকা যেন মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় হয়, সে বিষয়েও জবাবদিহি থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টায় পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় এমপি মিলন বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন শুধু সেতু, সড়ক কিংবা বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড হলো সাধারণ মানুষ কত সহজে, দ্রুত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্বাস্থ্যখাত অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়নি। উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের সংকট, ওষুধের ঘাটতি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অকার্যকারিতা এবং ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ২ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, যাতে দেশের প্রতিটি মানুষ সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়।
এমপি মিলন বলেন, বাজেট বৃদ্ধির পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, প্রয়োজনীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের কার্যকর ব্যবহার এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবায় কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা অবহেলার সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, একটি হাসপাতালের সাফল্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণে নয়; রোগী কত দ্রুত, আন্তরিকতা ও সম্মানের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবিক মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পবা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম। এছাড়া নওহাটা পৌরসভার সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন
আপনার মতামত লিখুন :