

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:- মোঃ নুরুল আলম)
পার্বত্য বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ৫নং সরই ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত প্রতারণা চক্র। পরকীয়া আসক্তি, একাধিক বিয়ে এবং মিথ্যা মামলাকে পুঁজি করে নিরীহ স্বামীদের হয়রানি করাই যেন এই চক্রের মূল পেশা। সরই ইউনিয়নের আন্দারী পাড়ার বাসিন্দা আজিজ আহমেদের মেয়ে আনোয়ারা বেগমের বিরুদ্ধে এমন বহু অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা একে ‘মোহরানা ও মিথ্যা মামলা বাণিজ্য’ হিসেবে অভিহিত করে এর দ্রুত প্রতিকার দাবি করেছেন।
বিয়ের জাল ও পরকীয়ার করুণ ইতিবৃত্ত
অনুসন্ধানে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা বেগমের ব্যক্তিগত জীবনের ধারাবাহিক ঘটনাগুলো এক অদ্ভুত প্রতারণার চিত্র ফুটিয়ে তোলে:
প্রথম বিবাহ ও বিচ্ছেদ: ২০১৫ সালের ১৩ জুন প্রথমবার লামার সরই ইউনিয়নের আন্দারী পাড়ার বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল মিয়ার ছেলে মোঃ শাহিনের সাথে আনোয়ারা বেগমের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে আনোয়ারা বেগমের পরকীয়া আসক্তির কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের আনুষ্ঠানিক বিচ্ছেদ ঘটে।
দ্বিতীয় বিয়ে ও তালাক: প্রথম বিচ্ছেদের পর ২০২৩ সালের ১৫ আগস্ট আনোয়ারা বেগম খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার সাহসজয়খালী সাহস এলাকার বাসিন্দা মাহমুদু আলী শেখের ছেলে ছমিউল শেখ কে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এই সংসারও ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম নোটারির মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বামী ছমিউল শেখ কে তালাক দেন তিনি।
তৃতীয় বিয়ে এবং দেনমোহর আদায়: এদিকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম স্বামী মোঃ শাহিনের সাথেই পুনরায় তৃতীয় বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন আনোয়ারা বেগম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাঁর পুরনো পরকীয়া স্বভাব মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এর জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল মোঃ শাহিনের সাথে তাঁর আবারও বিচ্ছেদ ঘটে। সে সময় দেনমোহর বাবদ ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা নগদ বুঝে নেন আনোয়ারা বেগম।
বাস্তব সত্য আড়াল করে মিথ্যা মামলার পাঁয়তারা সবকিছু মীমাংসা হয়ে যাওয়ার পরও থেমে থাকেনি আনোয়ারা বেগমের প্রতারণা। বাস্তব সত্য ও দেনমোহরের টাকা বুঝে পাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে তিনি উল্টো ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেন। অভিযোগ রয়েছে, একটি ভুয়া তালাকনামার অজুহাত দেখিয়ে এবং দেনমোহরের টাকা পাননি—এমন মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য উপস্থাপন করে সাবেক স্বামী মোঃ শাহিনের বিরুদ্ধে সরই গ্রাম আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন আনোয়ারা বেগম। অথচ তিনি নিজেই সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় দেনমোহরের পুরো টাকা বুঝে নিয়েছিলেন।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ ও দাবি
এভাবে একের পর এক বিয়ে, ইচ্ছাকৃত ভাবে পরকীয়ার মাধ্যমে সংসার ভাঙা এবং পরবর্তীতে কাবিন ও দেনমোহরের টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিরীহ স্বামীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা আনোয়ারা বেগমের একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও অতিষ্ঠ।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আইনের ফাঁক ফোকর গলিয়ে এই ধরনের মিথ্যা মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণা আর কত দিন চলবে? এই প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :