অপরাহ্ণ ১০:২৮
রবিবার
১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের মীরসরাই প্রেসক্লাবের ভীমরতির কমিটি গঠন: ৫ আগষ্টের পর থেকে যারা পলাতক ছিলো তারাই আবার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে গেলো!


sohel প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ন /
চট্টগ্রামের মীরসরাই প্রেসক্লাবের ভীমরতির কমিটি গঠন: ৫ আগষ্টের পর থেকে যারা পলাতক ছিলো তারাই আবার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে গেলো!

এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় বিদ্যমান থাকা বিবদমান দুই প্রেসক্লাবে ভীমরতির কমিটি গঠন: ৫ আগষ্টের পর থেকে যারা পলাতক ছিলো তারাই আবার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে গেলো! বিষয়টি মীরসরাইয়ের সর্বোত্র ব্যাপক আলোচিত হয়ে পড়েছে।
অনেককে বলাবলি করতে দেখা গেছে, এতোদিন যারা বলেছিলো মীরসরাইয়ের সাংবাদিক এনায়েত হোসেন মিঠু ও নয়ন কান্তি ধুম পলাতক রয়েছে তাদের মুখে চুনকালি দিয়ে গতকাল তারা তাদের দুই প্রেসক্লাবের সভায় সরব উপস্থিতি দেখিয়ে প্রমাণ করেছে তারা পলাতক নয়।
উল্লেখ্য যে, মীরসরাই উপজেলায় বিবদমান দুই প্রেসক্লাবের মধ্যে এক প্রেসক্লাবের সাবেক সেক্রেটারি থেকে আহবায়ক হয়ে আসা এনায়েত হোসেন মিঠু যদি ও বা আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লীগের কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতা কর্মী হিসেবে সবার কাছে অধিক পরিচিত ছিলো। আর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সে মীরসরাইতে থাকা এক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এর পদ ভাগিয়ে নিয়ে প্রেসক্লাবকে আওয়ামী স্টাইলে ঢেলে সাজায়। সে সময় তার বিরুদ্ধে নানা বিধ: কর্মাপোকর্ম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠে। তবে, সেই সময় কেউ মুখ খুলে কিছু বলার সাহস পায়নি।
কিন্তু, ৫ আগষ্ট তার দল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেকেই অনেক ভাবে তার বিরুদ্ধে নানাবিধ: অভিযোগ উপস্থাপন করে এবং এখনো তা ব চলমান রয়েছে।
অপরদিকে সেই আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আরেক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হওয়া নয়ন কান্তি ধুম আওয়ামী ব্যানারে গঠিত ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড’ মীরসরাই উপজেলার সাধারণ সম্পাদক। ছাত্র কালীন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে আসার পর তার দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সে উক্ত সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পায়। কিন্তু, যার উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিন-ই ছিলো মীরসরাই সদর ও বারইয়ারহাট পৌরসভা বাজারে ৫ আগষ্টের পর পর সে ও অন্তর্ধানে চলে যায়! গত প্রায় ৩ বছরের কাছাকাছি সময় ধরে সে চট্টগ্রাম শহরেই অবস্থান করে আসছে।
যতোদূর জানা সম্ভব হয়েছে তাতে জানা গেছে, তারা দু’জন-ই মীরসরাই ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম শহরেই বসবাস করে আসছিলো। আর সে কারণে বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মী ছাড়া ও অন্যান্যরা তাদেরকে আওয়ামী দোসর বলতো। এবং এ ও বলতে শোনা যেতো-তারা ৫ আগষ্টের আগে দোর্দণ্ড প্রভাব বিস্তার করে চললে ও ৫ আগষ্টের পরে তারা মীরসরাই থেকে পালিয়ে যায়!
তবে, নিয়মিত তারা তাদের দায়িত্ব রত: মীরসরাই প্রেসক্লাবের অন্যান্যদর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতো। এমনকি মাঝে মধ্যে তারা মীরসরাই প্রেসক্লাবের বিভিন্ন সভায় ও অংশগ্রহণ করে থাকতো।
এর মধ্যে হঠাৎ আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার বেশ কিছু দিন পর এনায়েত হোসেন মিঠু কে সাধারণ সম্পাদক এর পদ থেকে বাদ দিয়ে দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার মীরসরাই প্রতিনিধি এম, মাঈন উদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এবং যথারীতি সাবেক দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার মীরসরাই প্রতিনিধি নুরুল আলম সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে থেকে যায়। এর পর আকস্মিক ভাবে সেই কমিটি বিলুপ্ত করে আবার সেই এনায়েত হোসেন মিঠুকে ওই প্রেসক্লাবের আহবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। অন্যদিকে এর পর পরই (গতকাল ২৫ জুলাই শনিবার) অপর প্রেসক্লাবের বহাল থাকা কমিটি (সভাপতি আওয়ামী লীগের নয়ন কান্তি ধুম এবং সাধারণ সম্পাদক জামায়াতের আনোয়ারুল হক নিজামী) ও বিলুপ্ত করে উক্ত প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি (সাবেক) মাহবুবুর রহমান পলাশকে আহবায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এখন সবার মাঝে ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে যে, হঠাৎ কেনো এমন ধরনের উলটপালট!?