

নিজস্ব সংবাদদাতা
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা’-র উদ্যোগে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে উচ্চশিক্ষা ও সাধারণ শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১টায় নগরীর সপুরাস্থ শাপলা কালচারাল স্কুল কনফারেন্স হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই বৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা-মোহনপুর (রাজশাহী-৩) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল হক মিলন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি মিলন বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যাদের ওপর নির্ভরশীল, সেই আগামী প্রজন্মকে প্রকৃত মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের কোনো বিকল্প নেই।” তিনি শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সচেষ্ট এবং এই যাত্রায় সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
বিভিন্ন মহলের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের নানা বিশেষণে বিশেষায়িত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সব সমালোচনা পাশ কাটিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”
শিক্ষার পাশাপাশি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি জানান, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৩১ দফায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকেই গান, খেলাধুলা, হামদ-নাতসহ আটটি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যারা এসব ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা দেখাবে, তাদের সরকারিভাবে ভাতা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দেশব্যাপী ১০টি ভেন্যুতে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দেশ গঠনের লক্ষে একযোগে কাজ করার একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মোট ৪৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ৯ জন শিক্ষার্থীকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০২৫ মেয়াদে) মাসিক ৩,০০০ টাকা হারে প্রদান করা হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা বুয়েট, মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
৩৫ জন শিক্ষার্থীকে মাসিক ১,৫০০ টাকা হারে অর্থ প্রদান করা হয়েছে।
মোট বিতরণকৃত অর্থ ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের প্রাপ্ত বৃত্তির টাকা শিক্ষা উপকরণ ক্রয় ও মানসম্মত শিক্ষার পেছনে ব্যয়ের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে তারা শিক্ষার্থীদের মাদক ও মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার মানব সম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রইসুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
আপনার মতামত লিখুন :