

মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি:-
পাহাড়ের শান্ত জনপদ রাঙামাটিতে রক্তের সম্পর্কের মর্যাদা ধুলোয় মিশিয়ে দিল এক পাশবিক ঘটনা। শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় মাত্র ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে। খেলার মাঠ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে এই জঘন্য অপরাধ ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে শিশুটি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
৩০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকের ঘটনা। রাঙামাটি শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় শিশুটি তার বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলাধুলা করছিল। শিশুদের কলকাকলিতে মুখর পরিবেশে হঠাৎ ছেদ পড়ে। ভুক্তভোগী শিশু পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, সে যখন খেলছিল, তখনই তার চাচাতো ভাই তাকে রাস্তা থেকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক নিজের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।নির্যাতনের শিকার শিশুটি কোনোমতে নিজের বাসায় ফিরে এলে তার শারীরিক অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। শিশুটির বড় বোন প্রথম লক্ষ্য করেন যে, তার ছোট বোনের প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনদের জানানো হয় এবং দ্রুত শিশুটিকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।আমরা ভাবতেও পারিনি নিজের রক্ত এমন কাজ করতে পারে। রাস্তায় খেলছিল মেয়েটা, সেখান থেকে তুলে নিয়ে এমন সর্বনাশ করল। আক্ষেপ করে বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক আঘাত গুরুতর। প্রাথমিক চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে তাকে বর্তমানে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তাকে চট্টগ্রামে রেফারের (স্থানান্তর) প্রক্রিয়া চলছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছে। রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে জানান।শিশুটিকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চাচাতো ভাই পলাতক রয়েছে।আসামিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
খোদ নিকটাত্মীয়ের হাতে এমন পাশবিকতার শিকার হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিক সমাজ বলছেন, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ঘরের পাশের শিশুটিও নিরাপদ থাকছে না। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবি করেছেন রাঙামাটির সাধারণ মানুষ।
আপনার মতামত লিখুন :