অপরাহ্ণ ০৮:২৭
সোমবার
১ই বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাত যত গভীর হয়, ক্রেতারা তত মার্কেটে আসে


sohel প্রকাশের সময় : মার্চ ১৮, ২০২৬, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ন /
রাত যত গভীর হয়, ক্রেতারা তত মার্কেটে আসে

সিলেট জেলা প্রতিনিধি

সিলেটকে বলা হয় রাতের কেনাকাটার শহর। ঈদের মতো উৎসবে নগরীর মানুষ মধ্যরাত পটর্যন্ত কেনাকাটা করে থাকেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এই জেলায় ঈদকে কেন্দ্র করে প্রচুর রেমিট্যান্স এসে থাকে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে মার্কেটগুলোতে। প্রচুর কেনাকাটা হয়। কিন্তু আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা আতঙ্কে রয়েছেন। এর কিছুটা রেশ পড়েছে সিলেট অঞ্চলে বসবাসকারী তাদের পরিবারের মাঝে।তবে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন হওয়ায় ইউরোপ-আমেরিকায় থাকা অনেক প্রবাসী সিলেটে এসেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ঈদ করার জন্য থেকে গেছেন। তাদের কারণে এবারের ঈদে বেচাকেনা বেড়েছে।নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, দুপুর থেকে ক্রেতারা মার্কেট শপিংমলে আসতে শুরু করেন। ইফতারের মিনিট পাঁচেক আগ পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। এরপর ইফতার শেষে আবার শুরু হয় ক্রেতার চাপ। রাত যত গভীর হয় ক্রেতা তত বাড়তে থাকে। চলে অনেক রাত পর্যন্ত। বিশেষ করে হঠাৎ ঝড় বৃষ্টিও ঈদের কেনাকাটায় বাদ সাধতে পারেনি। শনিবার রাত ১০টার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতেও নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারে পা ফেলার জায়গা ছিল না।সিলেট নগরীর অভিজাত শপিংমল হিসেবে পরিচিত জিন্দাবাজার এলাকার ব্লুওয়াটার শপিং সিটি, কাকলী শপিং সেন্টার, সিটি সেন্টার, আল-হামরা শপিং সেন্টার, সিলেট প্লাজা, জেলরোড, বারুতখানা ও কুমারপাড়ায় ফ্যাশন হাউসগুলোর শো-রুমে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা কেনাকাটা করছেন। পাশাপাশি বন্দরবাজার ও হকার্স মার্কেটেও নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল।জিন্দাবাজারের বিপণিবিতান রিয়েল টাচের পরিচালক উৎপল রায় বলেন, ‘রমজানের শুরুতে ক্রেতা সমাগম কম ছিল। তবে ১৫ রোজার পর ক্রেতা বেড়েছে। এবার ঈদবাজারে মানুষজনের বাজেট অনেক কম মনে হয়েছে। এটা হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে। কারণ সিলেটে অনেক মানুষ ইউরোপ আমেরিকার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যেও থাকেন। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হয়তো প্রবাসীরা সীমিত টাকা পাঠিয়েছেন। তাই কিছু ক্রেতার বাজেট সীমিত মনে হয়েছে।’নগরীর নবাব রোড এলাকার বাসিন্দা আরিশা বলেন, ‘এবার কাপড়ের ডিজাইন ও গুণগত মান খুব একটা ভালো মনে হয়নি। নামিদামি ব্র্যান্ডের ফ্যাশন হাউসগুলোতেও একই অবস্থা। অনেকে নতুন কিছু না এনে পুরোনো কালেকশন রিস্টক করেছেন। দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন।’জিন্দাবাজার এলাকায় কেনাকাটা করতে আসা ইমা রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে নারীদের জন্য কোনো না কোনো ট্রেন্ডের পোশাক আসে, যেটা কিনতে সবাই ভিড় করে। কিন্তু এবার কোনো ট্রেন্ডি পোশাক আসেনি। তাই আমার মতো যারা ট্রেন্ড ফলোয়ার তারা এটা মিস করছি। এবার সব গতানুগতিক পোশাক, কিন্তু দাম অনেক বেশি। তারপরও বাজেট অনুযায়ী কেনাকাটা করছি।’ওই এলাকার ব্লুওয়াটার শপিং সিটির বাচ্চাদের কাপড়ের দোকান খাদিজা বেবি শপের পরিচালক ইমন আহমদ বলেন, ‘ক্রেতা সমাগম অনেক। আমাদের বিক্রিও ভালো হচ্ছে।’বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখার মহাসচিব ও সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান রিপন বলেন, ‘এবার প্রায় সবারই ব্যবসা ভালো হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের কারণে ইউরোপ-আমেরিকার থেকে অনেক প্রবাসী দেশে এসেছেন। তখনই ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলাম এবার ঈদে ভালো ব্যবসা হবে। কারণ নির্বাচনের পরই রোজা হওয়ার প্রবাসীরা দেশে ঈদ করার জন্য থেকে যাবেন। আমাদের ধারণা ঠিক হয়েছে। এবারের ঈদে ক্রেতাসমাগম অনেক বেশি হচ্ছে।’তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। যুদ্ধের কারণে তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আতঙ্কগ্রস্ত। বেশিরভাগ ক্রেতাদের বাজেট সীমিত দেখা গেছে। আমাদের টার্গেট ক্রেতাদের বেশির ভাগই তারা। তবে একবাক্যে বলা যায়, মানুষ উৎসবের আমেজে কেনাকাটা করছেন।’ঈদবাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ যেন নিরাপদে ঈদবাজার করতে পারেন সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও মার্কেটে পুলিশ সদস্যরা ডিউটিরত আছেন। তল্লাশি চৌকি বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর যানজট নিরসনে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন