
এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাইতে কিছু দুরন্ত প্রকৃতির লোক বের হয়েছে সাংবাদিকতার ট্যাগ লাগিয়ে! মূলত: ওরা ৫ আগষ্টের পর থেকে বের হলে ও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে পুরোদমে সক্রিয় হয়ে রিতি মতো বিএনপি’র নেতাদের ব্লাকমেইলিং করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা!! বিএনপি’র নেতারা তাদের ওই দুরন্তপনা বুঝে উঠতে পারছেন না!!!
ওই সব সাংবাদিক নামধারী দুরন্তপনা ব্যাক্তিরা কোনো পত্রিকায় কাজ না করলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে পেজ খুলে বিএনপি’র বিভিন্ন প্রোগ্রামে হাজির হয়ে মোবাইল নিয়ে ছবি তুলে এবং ভিডিও করে তা নিজেদের পেজ এ আপলোড দেয়। যাহা বিএনপি’র নেতা কর্মীরা ও করে। কিন্তু, বিএনপি’র ওই সব নেতা কর্মীরা টাকা না পেলে ও তারা কেনো টাকা পায়? এ ছাড়া আরো কিছু ব্যাক্তি আছে যারা নিজেদের পকেটের টাকা দিয়ে মাইক্রো ফোন/বুম কিনে তা নিয়ে বিএনপি’র নেতাদের মধ্যে বাছাই করে তাদের সামনে গিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এর পরিচয় দিয়ে সাক্ষাতকার নেয়ার নামে ভিডিও করে বক্তব্য নেয়। পরে তা তাদের পেজ এ আপলোড দেয়। এবং কেউ কেউ ওই সব সাক্ষাতকার নেয়া ভিডিও তে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এর লোগো লাগিয়ে তা ও আপলোড দেয়। আর তা ওই সব বিএনপি’র নেতা (যাদের সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে) দের কাছে কপি করে/ডাউনলোড দিয়ে পাঠিয়ে দেয়। তবে, দুই/চারজন আছে নামখাওয়াস্তের দুই/একটি পত্রিকা কর্তৃপক্ষ থেকে টাকা দিয়ে আইডি কার্ড কিনে নিয়ে সাংবাদিকতার দোহাই দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার মালিক বনে যাচ্ছে/ গেছে! প্রকৃতপক্ষে তারা পত্রিকায় নিউজ লেখার সিস্টেম ও জানে না।
আসলে কি তারা কোনো নামিদামি সাংবাদিক? না, তা মোটেই নয়। কিন্তু, বিএনপি’র ওই সব নেতারা কি বুঝতে পারেন? তা ও না। বিএনপি’র কোনো প্রোগ্রামে গিয়ে তারা যখন ছবি তুলে এবং ভিডিও করে তা কখন কোন্ পত্রিকায় নিউজ হয়/হবে বা কোন্ টিভি চ্যানেল এর কয়টার সংবাদে দেখায় এবং দেখাবে ও তার কিছু ই তারা জানেন না।
তবে, ওই সব সাংবাদিক নামধারী সু’চতুর প্রকৃতির লোকরা পরের দিন কোনো না কোনো নামখাওয়াস্তের পত্রিকায় বা তাদের পেজ এ প্রকাশ হওয়ার কপি তাদের কাছে পাঠিয়ে নেয়া টাকা বৈধ করে আগামীতে আরো ধান্দাবাজির পথ পরিস্কার করে নিয়ে চালানো হচ্ছে টাকা কামানোর মহোৎসব। এ ছাড়া- ফেইজবুকে তাদের পেজ এ ওই সব সাক্ষাতকারের ভিডিও সংবাদ বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এর লোগো লাগিয়ে তা প্রচার করে তা ডাউনলোড দিয়ে তাদের কাছে পাঠিয়ে বলে থাকে- অমুক টিভি চ্যানেল এর এতোটার সংবাদে আপনার ওই সাক্ষাতকার প্রচার/দেখানো হয়েছে। আসলেই ওই সব কিছু-ই ভূয়া।
সুতরাং, অতীতকে বাদ দিয়ে আগামীর জন্য ওই সব সাংবাদিক নামধারীদের বিষয়ে বিএনপি’র নেতাদের সতর্ক থাকতে হবে। এবং হিসেবে কষে দেখতে হবে- বর্তমানে মীরসরাইয়ের সর্বোত্র যে সব সাংবাদিক নামধারীরা গিজগিজ করছে বিগত ১৭ বছরের আওয়ামী জামানায় তাদেরকে কেউ দেখেছেন কি না। অবশ্য, বলতে গেলে বলা চলে- মীরসরাইতে বিগত ১৭ বছর বিএনপি’র একমাত্র মুখোপত্র দৈনিক ‘দিনকাল’ পত্রিকার একজন মাত্র সাংবাদিক ছাড়া বাকি যারা ছিলো প্রায় সবাই আওয়ামী লীগের পক্ষিয় ছিলো। এবং সেই কারণে অনেকেই তাদেরকে আওয়ামী লীগের দালাল সাংবাদিক হিসেবে ও বলতে দ্বিধা করেন না। তথাপি বর্তমান সময়তে সাংবাদিকতা নামে যারা অফ সাংবাদিকতায় লিপ্ত রয়েছে তাদের সাথে দেশের নামিদামি কোনো পত্রিকার সাংবাদিকরা (যারা আগে ছিলো এবং এখনো আছে অনেকেই) সম্পৃক্ত নয়। সুতরাং, ওই সব দালাল, ধান্দাবাজ- চাঁদাবাজ সহ দুরন্ত প্রকৃতির সাংবাদিক নামধারী ব্যাক্তিদের এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে বিএনপি’র নেতাদের সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যক। মীরসরাইয়ের প্রবীণ সাংবাদিক সহ নবীণ বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা তাদের ওই সব অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ভুমিকা রাখার মনোস্থির করছেন বলে জানা গেছে।
আপনার মতামত লিখুন :