
এম, এ কাশেম, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় পলাতক আওয়ামী নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সূত্র মতে, উত্তর চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা পরিষদের সাবেক আওয়ামী দলীয় চেয়ারম্যান ও উপজেলার ১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন (বর্তমআনে পলাতক) নয়ন সহ ০ জনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের দায়ের করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ক্ষমতা কালীন সময়ে উক্ত এনায়েত হোসেন নয়ন ১ শতাংশ করের উন্নয়ন প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাত করেন। আর ওই ঘটনায় সাবেক ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান এবং তার সহযোগী হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য সহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার আসামিরা হলেন- ১ নং করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান,
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মীরসরাই উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ এনায়েত হোসেন নয়ন, সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য কল্পনা রানী চক্রবর্তী, শেলী মজুমদার ও তাহেরা বেগম এবং সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আবু তাহের (মাস্টার), মোঃ শহীদ উল্লাহ, মোঃ বেলাল উদ্দিন, ফেয়ার মিয়া মিন্টু, মোঃ আজাদ উদ্দিন ও কোরবান আলী। এরা সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারী হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।
২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থার উপ-সহকারী পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়নের জন্য নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। এবং অনুসন্ধানে প্রকল্পের অধিকাংশ ভাউচার জাল বলে প্রতীয়মান হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে ও ভুয়া ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। ভাউচারে উল্লেখ করা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকরা দুদকের অনুসন্ধানকারীদের জানিয়েছেন, ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর তাদের নয়।
এ ছাড়া প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথিতে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বাইরে অন্য সদস্যদের অধিকাংশ স্বাক্ষর ও জাল বলে প্রাথমিক ভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। ১ শতাংশ করের অর্থে নেয়া ৫৫টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা। তাদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
আপনার মতামত লিখুন :