[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

‎মেধা ও মননে আলোকিত প্রজন্ম গড়ছে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ‎ ছয় দশকের গৌরব, সাফল্য ও সম্ভাবনার হাতছানি


sohel প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১, ২০২৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন / ০
‎মেধা ও মননে আলোকিত প্রজন্ম গড়ছে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়  ‎ ছয় দশকের গৌরব, সাফল্য ও সম্ভাবনার হাতছানি
শুনুন বাংলায় Ready

স্টাফ রিপোর্টার: রাকিবুল ইসলাম
‎
‎রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে চলছে।
‎
‎বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার সমন্বয়ে পরিচালিত এ সহশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অন্যতম নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিদ্যালয়ের প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ছিল ৯৪ শতাংশ। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিদ্যালয়ের অর্জনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
‎
‎শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে বিদ্যালয়টির সাম্প্রতিক অর্জনও উল্লেখযোগ্য। অষ্টম শ্রেণির জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল হক মাফি ও আল ফজলি রাব্বি বৃত্তি অর্জন করেছে। বর্তমানে তারা নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
‎
‎এ ছাড়া ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মিনহাজুল ইসলাম, মাহফুজ ইসলাম, সাদিয়া ইসরাত ও সুবর্ণা আক্তার মায়া ৪ জন বৃত্তি অর্জন করেছে। জিপিএ ৫ পেয়েছে সাত শিক্ষার্থী। তারা হলো—মিনহাজুল ইসলাম, এসএম বাঁধন, হাসিবুল ইসলাম, আব্দুল মমিন, সাদিয়া ইসরাত, রুমানা আক্তার স্মৃতি ও সুবর্ণা আক্তার মায়া।
‎
‎
‎শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্ব দিচ্ছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
‎
‎শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়েও রয়েছে বিশেষ নজর। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে বিদ্যালয় থেকে অভিভাবকদের ফোন করে খোঁজখবর নেওয়া হয়।
‎
‎বিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন শ্রেণিকক্ষ, বিজ্ঞানাগার ও কম্পিউটার ল্যাব। তবে প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলাতে এসব সুবিধার আরও সম্প্রসারণ এবং ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
‎
‎
‎বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি শিক্ষার এক আলোকস্তম্ভ। আধুনিক প্রযুক্তি ও নৈতিকতাভিত্তিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার। এই বিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীই আমাদের গর্ব।সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও মানবিকতাই আমাদের শিক্ষার মূল ভিত্তি। আমরা শুধু পাস নয়, মানুষ গড়ার শিক্ষা দিই। শিক্ষকদের নিবেদন ও অভিভাবকদের সহযোগিতা আমাদের অগ্রগতির চাবিকাঠি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি আলোকিত সমাজ গড়তে চাই।”
‎
‎তিনি আরও জানান, জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে ২০০৩ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণিশিক্ষক এবং ২০১৭ ও ২০১৯ সালে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।
‎
‎সব মিলিয়ে, দীর্ঘ ছয় দশকের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক সাফল্য এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কেশরহাট উচ্চ বিদ্যালয় তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিষ্ঠানটি আগামী দিনে আরও সুনাম অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর।

2

2