পূর্বাহ্ণ ০৫:৪৩
রবিবার
২০ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতনহীন জীবন এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় হারিয়ে যাচ্ছে কর্মজীবনের মূল্যবান সময়


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ন / ০
নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতনহীন জীবন এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় হারিয়ে যাচ্ছে কর্মজীবনের মূল্যবান সময়
শুনুন বাংলায় Ready

​এম,এ,মান্নান, নিয়ামতপুর (নওগাঁ)

​বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকতা পেশাকে বলা হয় মহান ও সম্মানজনক পেশা। কিন্তু দেশের অসংখ্য নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বাস্তব জীবন যেন সেই সম্মানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষার দায়িত্ব পালন, ফলাফল প্রকাশ ও প্রশাসনিক কাজ চাল্যে যাওয়ার পরও তারা কোনো সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখা, অন্যদিকে পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়—দুইয়ের ভার সামলাতে গিয়ে চরম মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন তারা।সাম্প্রতিক সময়ে নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদ’-এর নেতারা জানান।দেশে প্রায় ৩৫,৩৩২টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।তারা এমপিওভুক্তির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জোর দাবি জানান।এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষকরা বিভিন্ন সময়ে রাজপথে নেমেছেন।স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা এমপিওভুক্তি ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বিজয় সরণি এলাকায় আটকে দেয়।​এ ধরনের কর্মসূচি প্রমাণ করে যে, এই আন্দোলন কেবল আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্তির নয়—এর সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সামাজিক মর্যাদা এবং পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জড়িত।
একজন সরকারি বা এমপিওভুক্ত কর্মীর এক মাসের বেতন বন্ধ হলেই যেখানে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, সেখানে নন-এমপিও শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে বেতনহীন অনিশ্চয়তার মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। সন্তান ও পরিবারের খাদ্য, চিকিৎসা, পোশাক ও বাসস্থানের খরচ জোগাতে তারা ধার-দেনা ও বিকল্প আয়ের ওপর নির্ভর করছেন, অথচ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান থেকে পিছপা হননি।একটি সংস্থাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদনের পর দীর্ঘদিন আর্থিক সুবিধার বাইরে রাখায় বড় ধরণের সংকট তৈরি হয়। তবে এ বিষয়ে সরকারি নীতি ও সাম্প্রতিক কিছু অগ্রগতি নিম্নে তুলে ধরা হলো-সংসদে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, বর্তমানে দেশে ৩৪,১২৯টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫,৯৮,৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২,০৬,৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্দিষ্ট যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে সব ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে এমপিও সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি পূর্বে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও যারা এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনার সুপারিশ করে। একইসঙ্গে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা, পাসের হার, অবকাঠামো এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত বিবেচনা করে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন করা।যাচাইকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে এমপিওভুক্ত করা।যেসব শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং যাদের অবসর নেওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাদের ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে দ্রুত সমাধানের পথ বের করা।শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষকরা যদি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেবল আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে অবসর নেন, তবে তা পুরো শিক্ষাব্যবস্থার জন্যই একটি বড় ব্যর্থতা। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং এক প্রজন্ম গড়ার কারিগরদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে নন-এমপিও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের শ্রম ও অবদানের দ্রুত ও টেকসই মূল্যায়ন জরুরি।

2

2