পূর্বাহ্ণ ০৪:৩১
শনিবার
১৯ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পবার পারিলা ইউনিয়ন বিএনপি ঐক্যবদ্ধ: এমপি মিলন


sohel প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন / ০
পবার পারিলা ইউনিয়ন বিএনপি ঐক্যবদ্ধ: এমপি মিলন
শুনুন বাংলায় Ready

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবার অন্যান্য ইউনিয়নের মতো পারিলা ইউনিয়ন বিএনপিও ঐক্যবদ্ধ। বিগত সংসদ নির্বাচনে এই ইউনিয়নের জনগণ ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক হারে রায় দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার হাট রামচন্দ্রপুর কলেজ মাঠে পারিলা ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বিএনপি দেশের একটি বৃহত্তম এবং সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। এই দলে নেতাকর্মী ও সমর্থকের কোনো অভাব নেই। একাধিক বলিষ্ঠ নেতা থাকা দলের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।” দলের শৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে এমপি মিলন বলেন, “বিএনপির কোনো নেতা বা কর্মী ভুল করলে তার বিষয়ে আলোচনা হয় এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দলে অনেক ত্যাগ থাকা সত্ত্বেও সামান্য শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ করতে বলেছেন। একই কারণে দলের বেশ কয়েকজন যুবদল নেতাকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সুতরাং, দল করতে হলে অবশ্যই দলের নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে।”
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা সংসদের ভেতরে এক কথা আর বাইরে আরেক কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে। এরা সারাজীবন মোনাফেকি করে আসছে। ১৯৪৭ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তারা ভারতের পক্ষে ছিল, আবার মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। শুধু তাই নয়, স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে যুগপৎ আন্দোলনে নামলেও, ১৯৮৬ সালে মোনাফেকি করে এরশাদের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এমনকি ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হয়ে আ-জা-জা (আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াত) জোট গঠন করে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছিল।” তিনি আরও বলেন, “জামায়াতে ইসলামী ও তাদের শরিক এনসিপি দেশের কথা না ভেবে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।”
সংসদ সদস্য বলেন, “১৭ বছরের শোষিত ও লুণ্ঠিত দেশকে পুনর্গঠনে কাজ করছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু তাঁকে পিছিয়ে দিতে বিরোধী দল উঠেপড়ে লেগেছে। বেহেশতের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে সরকার গঠনের যে দিবাস্বপ্নে তারা বিভোর ছিল, এখনও সেই ধরনের কর্মকাণ্ডই চালিয়ে যাচ্ছে।”
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবখানেই শতভাগ ভালো প্রার্থী পাওয়া যাবে তা নয়, ভুলও হতে পারে। তবে প্রার্থীর কথা চিন্তা না করে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। প্রার্থী ঘোষণায় থানা, জেলা ও সর্বোচ্চ পর্যায়ের সবার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”
পারিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোখলেসুর রহমান রেন্টুর সঞ্চালনায় কর্মীসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য আলী হোসেন, সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ ও কুতুব উদ্দিন বাদশা।
এছাড়া বড়গাছী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল রানা, হরিয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব বাদশা মিয়া, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাইজুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, সদস্য মাজদার রহমান, পবা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ ছোট এবং জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। কর্মীসভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

2

2