

মোঃআইয়ুবআলী, লালপুর (নাটোর)
:সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়ে সেজে ভিডিও কলের ফাঁদ পেতে ব্লাকমেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ ক্লোন করে টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নাটোরের লালপুর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৯৯ পিস অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি অত্যন্ত চতুর ও প্রযুক্তিগত সুক্ষ্ম কৌশল ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলত। প্রতারকরা নিজেদের ফোনের ফ্রন্ট ক্যামেরা স্টিকার দিয়ে বন্ধ করে রাখত, যাতে তাদের দেখা না যায়। একই সাথে ভয়েস চেঞ্জার হেডফোন ব্যবহার করে পুরুষ থেকে মেয়ের কন্ঠ ধারণ করত। নিজেদের আড়াল করে মোবাইলের ব্যাক ক্যামেরা দিয়ে আরেকটি ফোনে থাকা ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা বিভিন্ন আপত্তিকর বা অশ্লীল ভিডিও দেখাত। কৌশলগত কারণে এই ভিডিওগুলো তারা নিজেদের ভিডিও বলে দাবি করত।অপর প্রান্তের ভুক্তভোগী পুরুষদের ফাঁদে ফেলে তারা হোয়াটসঅ্যাপের ক্লোন অ্যাপস (Clone Apps) ব্যবহার করে ভিকটিমের অ্যাকাউন্ট নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিত।ব্লাকমেইল ও অর্থ আত্মসাৎ: অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের নিকটাত্মীয় ও পরিচিতদের কাছে বিভিন্ন আপত্তিকর মেসেজ ও ডকুমেন্টস পাঠিয়ে সামাজিক সম্মানের ভয় দেখাত। পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিত।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালিয়ে এই চক্রের তিন সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ডিভাইসসমূহ এবং ৯৯ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।লালপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মাদক এবং সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।এই ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসন সাধারণ জনগণকে অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ভিডিও কলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই ওটিপি (OTP) বা ব্যক্তিগত তথ্য কারো সাথে শেয়ার না করার এবং এ ধরণের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে
আপনার মতামত লিখুন :