

নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজশাহীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে ‘জিনের মাধ্যমে দাম্পত্য সমস্যা সমাধান’ করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর কাছ থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুক্তভোগী শ্যামলী আক্তার মৌসুমী (৩২) গত ১৯ এপ্রিল রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পরপরই পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ৫ মে র্যাব-৫ এর একটি দল কিশোরগঞ্জে অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্য তপু আকুন্জি (৩৮) কে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে চন্দ্রিমা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত তপু আকুন্জি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার ইসলামপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে বিয়ে হলেও দাম্পত্য কলহের কারণে স্বামীর সঙ্গে আলাদা বসবাস করছিলেন ভুক্তভোগী। চলতি বছরের ১ এপ্রিল ফেসবুকে “মাওলানা আব্দুর সিদ্দিকুর রহমান” নামের একটি আইডিতে দাম্পত্য সমস্যা সমাধানের বিজ্ঞাপন দেখে তিনি যোগাযোগ করেন। এরপর প্রতারকরা ‘জিনের মাধ্যমে সমাধান’ করার কথা বলে তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য, এমনকি গোপন ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে।
পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে একাধিক নম্বরে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয় তাকে। কখনো তথাকথিত ‘নূর জাহান পাথর’, কখনো ‘দাফনের কাপড়’ ও ধর্মীয় সামগ্রী কেনার কথা বলে ধারাবাহিকভাবে অর্থ আদায় করা হয়।
একপর্যায়ে প্রতারকরা তাকে রাজশাহীর মেহেরচণ্ডি ফ্লাইওভার এলাকায় স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যেতে বলে। সেখানে পূর্বনির্ধারিত এক ব্যক্তির কাছে তিনি প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার ও ৮০ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন।
এভাবে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি।
ঘটনার পরও থামেনি প্রতারণা। আরও ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়া হয়—অর্থ না দিলে তার ছবি বিকৃত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে
এ বিষয়ে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটকে পুঁজি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক সমাধানের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা ক্রমেই বাড়ছে। এ ধরনের ফাঁদ থেকে বাঁচতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহজনক প্রস্তাব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :