

এম এ মান্নান স্টাফ রিপোর্টার নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় নেশা ও মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের চান্দইল কামারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক স্থানীয় একটি উন্নয়ন সংস্থা ‘বিডিও’র কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি তিনি দৈনিক আলোকিত নিউজের নিয়ামতপুর প্রতিনিধি, দৈনিক জনতার খবরের উপজেলা প্রতিনিধি এবং ইনফিনিটি বাংলা টিভি নিউজের নওগাঁ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে সংস্থার মৌসুমভিত্তিক ঋণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি চান্দইল কামারপাড়া গ্রামে যান। এ সময় নেশা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে প্রথমে আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে। পরে এক পর্যায়ে তারা লাঠিসোঁটা দিয়ে তাকে মারধর করে এবং নেশাবিরোধী সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দেয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নেশা ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই ওই সাংবাদিক বিভিন্নভাবে হুমকির মুখে ছিলেন। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাকে তারা সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবাধ বিক্রি চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হলেও বাস্তবে নেশা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ঘটনায় দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে নেশা ব্যবসায়ী ও নেশাগ্রস্তদের দৌরাত্ম্য আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে ধূমপান যেমন দণ্ডনীয় অপরাধ, তেমনি মাদকদ্রব্য উৎপাদন, পরিবহন ও বিক্রয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সেই প্রেক্ষাপটে নেশা ব্যবসা পরিচালনা করা যেমন বেআইনি, তেমনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করা সাংবাদিকের ওপর হামলাও গুরুতর আইন লঙ্ঘন।
সাংবাদিক মহলের অভিমত, সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব। নেশার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করাকে কেন্দ্র করে একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেব।”তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং এলাকায় নেশা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :