
নিজস্ব সংবাদদাতা
রাজশাহীর তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খানকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহলের বেশিরভাগ নাগরিক। তাঁদের অভিযোগ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে নিয়ে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এসব পোস্টের সততা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রতিবাদ জানানো স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ইউএনও নাঈমা খান একজন দায়িত্বশীল, জনবান্ধব ও সৎ কর্মকর্তা। সাধারণ মানুষ তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে সহজেই নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পারেন। তিনি ধৈর্যসহকারে সবার কথা শোনেন এবং প্রতিটি বিষয়ে আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তারা আরও বলেন, ইউএনও নাঈমা খান নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করেন এবং দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করেন না। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম তিনি যথাযথভাবে তদারকি করেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছে।
প্রতিবাদ জানানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মণি, মফিজ উদ্দিন, কলমা ইউনিয়নের আমিনুল, আতিক, নয়ন, শ্রী গণেশ মাহতো, মুচ্ছমালা এলাকার আশরাফুল মাস্টার, রিয়া, মাইনুল, খাইরুল ইসলাম, চান্দুড়িয়া ইউনিয়নের মাহফুজা এবং বাঁধাইড় এলাকার মফিজ উদ্দিন, স্বপন, আরতি রানী, মমতাজ বেগম, আমিনুলসহ স্থানীয় আরও কয়েকজন। তাঁদের ভাষ্য, অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যরা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকলে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজের পরিচালকের ভূমিকা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
সম্প্রতি ‘শিরোনাম নিউজ টিভি’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ইউএনও নাঈমা খানকে নিয়ে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করা হয়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘সরকারি ছুটির দিনে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দোহাই দিয়ে চলছে সড়কের গাছ কর্তন’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পরে রাজশাহীতে ছাত্রলীগের সঙ্গে ইউএনওর কথিত গোপন বৈঠকের পর মশাল মিছিলের অভিযোগ তুলে আরেকটি পোস্ট প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টে মশাল মিছিলের ভিডিওচিত্রও যুক্ত করা হয়েছে।
সচেতন মহলের অভিযোগ, এসব পোস্টে উপস্থাপিত তথ্য ও অভিযোগের কোনটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তাঁদের দাবি, অনলাইনে প্রকাশিত অভিযোগগুলো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একই পেজে প্রকাশিত অধিকাংশ পোস্টই নেতিবাচক এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের পোস্ট প্রকাশের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং প্রশাসনের প্রতি নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, কোনো অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা এবং ঘটনার নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করা সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু কথিত সাংবাদিকের পরিচালিত ওই পেজে এসব নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ইউএনওর কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা না পেয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহলের সদস্যদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি করা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রকাশকারী ব্যক্তির বক্তব্য, প্রকাশিত পোস্টগুলোর উৎস এবং সেগুলোর পেছনে থাকা তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁরা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে; তবে সেই স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে যাচাইহীন ও মিথ্যা তথ্য প্রচার করা উচিত নয়।
এ বিষয়ে ‘শিরোনাম নিউজ টিভি’ ফেসবুক পেজের পরিচালকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের সদস্যরা বলেন, তানোরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে আস্থা অটুট রাখতে সত্যনিষ্ঠ তথ্য প্রচার জরুরি। অনলাইনে প্রকাশিত অপপ্রচারের সততা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের বিভ্রান্তির অবসান সম্ভব
আপনার মতামত লিখুন :