

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী:
রাজশাহী কলেজের অনার্সে অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে দীর্ঘদিনের প্রেমিককে বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে তাঁর পরিবার এ বিয়ে নিয়ে আপত্তি জানিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তাঁর ওপর কোনো ধরনের জোর বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।
তরুণীর বর্তমান নাম অন্বেষা ইসলাম অর্পা (১৯)। এর আগে তাঁর নাম ছিল অন্বেষা সাহা। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার হাটসিংড়া গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব কুমার সাহা ও বাসনা সাহা চন্দ্রিমার কন্যা। তাঁর স্বামী রিয়াজুল ইসলাম উদ্দিন রিয়াজ (২৩) রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী থানার মিরকামারী এলাকার বাসিন্দা এবং রবিউল ইসলামের ছেলে।
অন্বেষা ইসলাম অর্পার দাবি, গত ৮ জুন ২০২৬ তিনি স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই দিনে রাজশাহীতে প্রচলিত আইন ও ইসলামী শরিয়াহ অনুসরণ করে রিয়াজুল ইসলাম উদ্দিন রিয়াজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বর্তমানে তারা একসঙ্গে সংসার করছেন বলে জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, পরিবারের সদস্য ও কয়েকজন আত্মীয় তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং দাবি করছেন যে তাঁকে জোরপূর্বক বিয়ে করা হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গত তিন বছর ধরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং নিজের ইচ্ছা ও বিশ্বাস থেকেই তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও রিয়াজকে বিয়ে করেছেন।
অন্বেষা বলেন, আমি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং নিজের ইচ্ছায় রিয়াজকে বিয়ে করেছি। আমাকে কেউ জোর করেনি বা ভয়ভীতি দেখায়নি। আমার পরিবার যদি আমাকে মেনে না নেয়, সেটি তাদের বিষয়। তবে তারা যেন কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টি না করে। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে সারাজীবন থাকতে চাই।
তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁর স্বামীর বাড়িতে একাধিকবার পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে তাঁদের আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তিনি একজন সাবালিকা এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত অধিকার তাঁর রয়েছে।
এদিকে রিয়াজের দাদি সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, প্রায়ই পুলিশ তাঁদের বাড়িতে এসে নাতি ও নাতবধূর খোঁজ করছে। এতে পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে সম্পাদিত একটি এফিডেভিটে অন্বেষা ইসলাম অর্পা উল্লেখ করেন, ইসলামের প্রতি বিশ্বাস থেকে এবং পরকালীন শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশায় তিনি স্বেচ্ছায় কালেমা পাঠের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পূর্বের নাম পরিবর্তন করে “অন্বেষা ইসলাম অর্পা” নাম গ্রহণের ঘোষণা দেন।
এফিডেভিটে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ওপর কোনো ব্যক্তি বলপ্রয়োগ, প্রলোভন বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করেননি; বরং সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও নিজ সিদ্ধান্তে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে সরকারি ও ব্যক্তিগত সব নথিতে নতুন নাম ব্যবহারের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে কাটাখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুমন কাদেরী বলেন, মেয়ের পরিবার থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। আমাদের কাজ হলো তরুণীকে উদ্ধার করে তাঁর বক্তব্য নেওয়া এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।#
আপনার মতামত লিখুন :