[msabcd_bangla_calendar display_view=”modern” format=”time_date_weekday” show_time=”1″ show_suffix=”1″ timezone=”Asia/Dhaka” color_primary=”#0073aa” color_bg=”#f8f9fa” font_size=”16px” border_radius=”10px”]

বিদেশিদের হেনস্তাকারী রাজশাহীর আকাশের বিলাসী জীবন


sohel প্রকাশের সময় : মে ১৪, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ন /
বিদেশিদের হেনস্তাকারী রাজশাহীর আকাশের বিলাসী জীবন

আমাদের জন্মভুমি ডেক্স

ট্যাটু দেখাতে অর্ধনগ্ন হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন মো. আকাশ (২৫)। পাশে দামি ম্যাকবুক, একাধিক ব্র্যান্ডের হাতঘড়ি, ভিসা কার্ড, ব্রেসলেট এবং ১০টি মোবাইল ফোন। এর মধ্যে কয়েকটি আইফোন। কখনো সোয়া ৬ লাখ টাকার ইয়ামাহা আর-ওয়ান-ফাইভ মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি, আবার কখনো কোটি টাকার ক্রাউন ক্রসওভার গাড়ি চালানোর ভিডিও- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বিলাসী জীবনযাপনের নানা ছবি ও ভিডিও নিয়মিত প্রকাশ করেন তিনি।

তবে এই ‘রাজকীয়’ জীবনের আড়ালে রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা। রাজশাহী নগরের ভদ্রা লেকপাড়ের বস্তিতে জন্ম নেওয়া আকাশের বাবা মো. সেলিম এখনও ভাগাড় থেকে ভাঙারি কুড়িয়ে সংসার চালান। মা শরিফা বেগম গৃহকর্মীর কাজ করেন মাসিক তিন হাজার টাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার বোর্ড ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেই অল্প বয়সে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন আকাশ।

সম্প্রতি নাটোরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে ঘুরতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তা করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত কয়েকজন রুশ নাগরিককে নিয়ে অশ্লীল ও আপত্তিকর মন্তব্য করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখনো গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন আকাশ।

জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর নাম মো. আকাশ হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি পরিচিত ‘আরিয়ান মাহমুদ আকাশ’ নামে। ফেসবুকে তাঁর অনুসারী ১৮ লাখের বেশি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও ফেসবুক প্রোফাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ফেসবুক ও টিকটকে নিয়মিত অশ্লীল ও আপত্তিকর কনটেন্ট প্রকাশ করেন আকাশ। বিভিন্ন সময় যুবদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে চলাফেরা এবং বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা গেছে তাকে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৮ মে ‘টিকটক বন্ধু মিলনমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে শতাধিক তরুণ-তরুণী নাটোরের গ্রিন ভ্যালি পার্কে জড়ো হন। পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, আকাশসহ কয়েকজন তরুণ পার্কে ঘুরতে যাওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করছেন।

ভিডিওটি ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ঘটনাটি। পরে পার্ক কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে লালপুর থানায় মামলা দায়ের করে। এ মামলায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার হরিদাগাছি গ্রামের কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত আকাশ এখনো পলাতক।

বুধবার ভদ্রা লেকপাড়ের বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেডের ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন আকাশের বাবা-মা ও বোন। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক বছর আগেও আকাশ সেখানেই থাকতেন। দুই বছর আগে বিয়ে করার পর স্ত্রীকে নিয়ে ভদ্রা জামালপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় ওঠেন। এরপর বস্তিতে খুব কমই আসেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, টিকটকে জনপ্রিয় হওয়ার আগে আকাশ এলাকার বখাটেদের নিয়ে চুরি-ছিনতাইয়ে জড়িত ছিলেন। পরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে জুয়ার বোর্ড পরিচালনা শুরু করেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাঁর হাতে চলে আসে। পাশাপাশি বস্তি এলাকায় মাদক কারবারের সিন্ডিকেটও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দলবল নিয়ে টিকটক ভিডিও তৈরির নামে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন আকাশ ও তাঁর সহযোগীরা। কয়েক মাস আগে ভদ্রা এলাকায় আরডিএ পার্কে বিনা টিকিটে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় এক আনসার সদস্যকে মারধরের অভিযোগেও মামলা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় ২৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ বিচারাধীন।

আদালত সূত্র জানায়, বুধবার মামলার ধার্য তারিখে আকাশ আদালতে হাজির হননি। তাঁর আইনজীবী অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সময়ের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১২ আগস্ট।

আকাশের বাবা মো. সেলিম বলেন, “লালপুরের ঘটনার পর পুলিশ কয়েক দফা আমাদের বাসায় এসেছে। কিন্তু আমার ছেলে এখন কোথায় আছে, তা আমি জানি না।”

রাজশাহী নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন যুবদল নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, আকাশ যুবদলের কর্মী হিসেবে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিতেন। তবে তাঁর কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। রগচটা আচরণের কারণে স্থানীয় নেতারা সম্প্রতি তাকে এড়িয়ে চলছিলেন। যদিও মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি দাবি করেছেন, তিনি আকাশকে চেনেন না।

এদিকে বিদেশি নাগরিকদের হেনস্তার ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও আকাশ গ্রেপ্তার না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ বাড়ছে। এ বিষয়ে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত আকাশকে ধরতে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আকাশের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বিদেশিদের সঙ্গে একটু মজা করতে গিয়েই ঘটনা ঘটেছে। আমি এ ধরনের ভিডিওই বানাই। তাদের হেনস্তা করার উদ্দেশ্য ছিল না। হয়তো কথা বলা ঠিক হয়নি। সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন।”

Bangla Photocard Generatorv3.7